সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

নির্বাচনে ধাক্কার পর আদালতেও বিপর্যয়, ট্রাম্পের ‘মেগা তোরণ’ নির্মাণে ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নির্বাচনে ধাক্কার পর আদালতেও বিপর্যয়, ট্রাম্পের ‘মেগা তোরণ’ নির্মাণে ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ হারানোর পর এবার আদালতের বাধার মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী ‘মেগা তোরণ’ নির্মাণ প্রকল্প। ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনায় ১৫ দিনের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ফলে প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দীর্ঘ আট ঘণ্টারও বেশি জনশুনানি এবং নাগরিকদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন (এনসিপিসি)। তবে অনুমোদনের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক তানিয়া চুটকান নির্মাণকাজে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তাবিত নির্মাণস্থল ও আশপাশে কোনো ধরনের নির্মাণ-সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। বিচারক তাঁর আদেশের ব্যাখ্যায় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি ও ভয়াবহ যানজট সৃষ্টির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ভার্চুয়াল বৈঠকে ৮-৪ ভোটে বিতর্কিত তোরণ নির্মাণের অনুমোদন দেয় এনসিপিসি। ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও নকশা পরিবর্তনের তদারককারী প্রধান দুটি ফেডারেল সংস্থার একটি এই কমিশন।

এর আগে অনুষ্ঠিত জনশুনানিতে ১২০ জনের বেশি নাগরিক প্রকল্পটির বিরোধিতা করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিলেন সাবেক সেনাসদস্য। তবে আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ট্রাম্পের সমর্থক ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত কমিশন দ্রুত অনুমোদন দেয়।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম তোরণ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার মতো এই স্থাপনার নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে শুরু থেকেই আইনি জটিলতা ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রকল্পটি।

ঐতিহাসিক স্থাপনার সৌন্দর্য নষ্টের আশঙ্কা

যুদ্ধাহত সাবেক সেনাসদস্য এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণবাদীরা প্রকল্পটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, তোরণটির বিশাল আকৃতি ও অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্য ও দৃশ্যপট ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বিশেষ করে লিঙ্কন মেমোরিয়াল, আর্লিংটন হাউস এবং রবার্ট ই লি মেমোরিয়ালের মধ্যবর্তী দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের গম্ভীর পরিবেশও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

বিরোধীদের প্রধান আইনি যুক্তি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, ওয়াশিংটনে নতুন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘কমেমোরেটিভ ওয়ার্কস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমতি বাধ্যতামূলক।

বৃহস্পতিবার নির্মাণস্থলের আশপাশে বিক্ষোভ করেন প্রকল্পবিরোধীরা। এতে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বায়ার বলেন, একজন ব্যক্তির অহংবোধ থেকে তৈরি এই বিশাল স্থাপনা সেখানে শায়িত প্রতিটি বীর সেনাসদস্যের প্রতি চরম অবমাননা।

‘আমার জন্য’—তোরণ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

গত অক্টোবরে ওভাল অফিসে তোরণের বিভিন্ন আকারের মডেল প্রদর্শন করেন ট্রাম্প। এ সময় এক সাংবাদিক তোরণটি কার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে জানতে চাইলে নিজের দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য।’

তবে পরে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী, আমেরিকানদের চেতনা, সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার স্মারক হিসেবে তোরণটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি তিনি আরও দাবি করেন, পটোম্যাক নদীর কাছে ব্যস্ত ট্রাফিক সার্কেলে নির্মিতব্য তোরণটি পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ড্রোন ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের সামরিক কমপ্লেক্স হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। যদিও এনসিপিসির কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত নথিতে কোনো সামরিক স্থাপনার উল্লেখ ছিল না।

৪২টি ঐতিহাসিক স্থাপনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে দিনে দুটি ১০ ঘণ্টার শিফটে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বৃহস্পতিবার আদালতে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) স্বীকার করে, তাদের নিয়োগ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের আগেই নির্মাণস্থলের চারপাশে চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছিল। আদালতে তারা জানিয়েছে, আপাতত এ ধরনের কাজ আর করা হবে না।

মামলার প্রধান বাদী মাইকেল লেমন শুনানিতে অভিযোগ করেন, পুরো পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি তাড়াহুড়ো করে একটি পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে কংগ্রেসকে ইচ্ছাকৃতভাবে পাশ কাটানো হয়েছে এবং আর্লিংটনের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন উপেক্ষা করা হয়েছে।

গত আগস্টে প্রকাশিত ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের এক পর্যালোচনায় বলা হয়, প্রস্তাবিত তোরণটি প্রায় ৪২টি ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রি ও লিঙ্কন মেমোরিয়ালসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যালোচনায় আরও বলা হয়, ক্যাপিটল হিল, জর্জটাউন ওয়াটারফ্রন্ট ও পেন্টাগন থেকেও তোরণটি দৃশ্যমান হবে। এতে ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যপটের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঐতিহাসিক সংরক্ষণ আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক সংরক্ষণ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ও সমঝোতা প্রয়োজন। তবে গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো চুক্তি ছাড়াই পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোয়।

এনসিপিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই স্বরাষ্ট্র বিভাগ প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু আদালতের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞায় আপাতত থেমে গেছে নির্মাণের তোড়জোড়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের কাছে পরাজয়ের পর আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সূত্র: সিএনএন

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক ও প্রকাশক
Editor & Publisher

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত