
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ফিরে- বৈরাম খা / সুকুমার রঞ্জন | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-১
রাজধানীর ভূমি জালিয়াত চক্রের অন্যতম সদস্যের নাম মনিরুজ্জামান মনির । এখনো আছেন তিনি ধরাছোঁয়ার বাহিরে ! যিনি ঢাকা শহর ও তার আশপাশ এলাকার বিভিন্ন মৌজার জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জালিয়াতি করে রাজধানীর ভূমি অফিসগুলোতে শক্তিশালী সিন্ডিকেট করে নামজারি, খাজনা ,খারিজ সহ নানান অনিয়ম অপকর্মের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি, অন্যের জমি বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি করে সেই জমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে মনির চক্রের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি মনির চক্রের জাল-জালিয়াতির এই বিষয়টি ধরা পড়লে ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে বসে । তবে তার আগেই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ভূমিদস্যু দালাল মনির চক্র নিজেদের কব্জায় নিয়েছেন অনুসন্ধানে এ তথ্য জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধান করে আরো জানা গেছে তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মনিরুজ্জামান মনির গং জাল-জালিয়াতি ও ভূমিদস্যুতার করে সরকারি খাস জমি ও দেবত্বর সম্পত্তি এবং সরকারের অধিগ্রহণ করা এবং ‘খ’ তালিকা ভুক্ত ও ১/১ জমি বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ও নিজেদের নামে নিতে জাল-দলিল করে ভূয়া লোককে জমির মালিক বানিয়ে নকল কাগজপত্রের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নেয়ার মতো অসংখ্য গুরুত্বর অভিযোগ থাকার পরেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ভূমিদস্যু দালাল জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মনিরুজ্জামান মনির সহ তার কজন সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনি কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এই চক্রের দৌরাত্ম্যে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে সম্প্রতি রাজধানীর ও তার আশপাশের ভূমি অফিসের দালাল-ভূমিদস্যু এই চক্রটির দীর্ঘদিন থেকে করে আসা এহেন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ভূমি অফিসগুলোর কর্তৃপক্ষ কিন্তু তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না এই ভূমিদস্যু দালাল চক্রের নানান অবৈধ কর্মকাণ্ড । এদিকে আরো জানা গেছে তথাকথিত সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মনির সহ এরকম একাধিক দালাল চক্রের সদস্যরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে গত কয়েক বছর সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন হিন্দুদের অনেক সম্পত্তির পাশাপাশি ১/১ ও খ তালিকাভুক্ত জমি জাল দলিল তৈরি করে ভূমি অফিসের অসৎ কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে নামজারি করে শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে নিয়ে আঙ্গুল ফুল হয়েছে কলাগাছ । যে লোকগুলোর এক সময় রাস্তার ফুটপাতে ঘুমাতো ছিল ভবঘুরে এখন তারা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে চলে আলিশান ফ্লাট বাড়ি ও বিঘা বিঘা জমির মালিক।
ভূমি জালিয়াতি চক্র ও ভূমি অফিসের দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মনিরুজ্জামান মনির সহ তার কজন সহযোগী রাজধানী ও তার আশে পাশের ভূমি অফিস গুলোকে ঘিরে জমি জাল- জালিয়াতির নানান অপকর্ম করে আসছে সেই বিষয়টি রাজধানীর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরে আসলে তারা ভূয়া সাংবাদিক মনির গং এর ভূমি অফিসে দালালি ও ভূমিদস্যুতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানোর পরও এইসব ভূমি অফিসের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রসারিত হচ্ছে দালালদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের পরিধি ।
সাম্প্রতি মনিরুজ্জামান মনির চক্র সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমি নিজেদের দখলের নিতে জাল দলিলসহ ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে আমিনবাজার, ডেমরা, মতিঝিল, কোতোয়ালী, সাভার, ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও সহ রাজধানী ও তার আশপাশের একাধিক সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারির জন্য আবেদন করলে মনির চক্রের জাল-জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে ভূমি অফিসগুলো এই চক্রের নামজারির আবেদন খারিজ করে দেন। জালিয়াত চক্রটির নামজারির আবেদন খারিজ করার পর ভুয়া সাংবাদিক মনির চক্র রাজধানী ও তার আশপাশ এলাকার ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাম সর্বস্ব পত্রিকায় মিথ্যা বানোয়াট উদ্ভট সংবাদ প্রকাশ করে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে নানান ভাবে হয়রানি করছে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন অভিযোগ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে চক্রটি প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী ও তার আশপাশে এলাকার ভূমি অফিস গুলোতে এমন কাজ করছে অহরহ তাদের কথা মত তাদের অবৈধ কাজকে বৈধতা না দিলে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, এই ভূমি জালিয়াত ভূমি অফিসের দালাল চক্রটি তাদের অবৈধ কাজকে বৈধ তা দিতে তারা কখনো সাংবাদিক কখনো দুদক কর্মকর্তা আবার সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পরিচয়ে রাজধানী ও তার আশপাশ এলাকার ভূমি অফিসে ফোন দিয়ে নানান হুমকি দিয়ে থাকেন। সূত্রে আরো প্রকাশ ভুয়া সাংবাদিক মনির চক্রটি রাজধানীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসগুলোতে ফোন দিয়ে এসিল্যান্ডদের হুমকি দিয়ে বলে প্রতি মাসে দশটি করে তার নামে নামজারি করে দেওয়ার জন্য অন্যথায় সংবাদ প্রকাশ সহ নানান হুমকি দিয়ে থাকেন । ভূয়া সাংবাদিক মনিরের এই ক্ষমতার উৎস কি ?
কথিত সাংবাদিক পরিচয় দানকারী মনিরুজ্জামান মনির রাজধানীর একাধিক ভূমি অফিসের লোকজন ভূমি জালিয়াতি সহ নানান অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর , গুলশান, ও সাভারের ভূমি অফিসের কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ কিছুদিন আগপিছ বেশ কয়েকবার তাকে ধরে গণপিটুনি দেন। শুধু তাই নয় রাজধানীর বনানী, মিরপুর এলাকায় আবাসিক হোটেলে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের লোকজন একাধিক বার গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আবার ছাড়া পেয়ে পুনরায় শুরু করেন ভূমি অফিসে দালালি,জাল-জালিয়াতি এবং চাঁদাবাজি, প্রতারণার কর্মকাণ্ড ।
এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি ) ও ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ কালে জানা গেছে সাভার, আমিন বাজার সহ রাজধানীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ভূমি অফিস গুলো দালাল সিন্ডিকেট মুক্ত করার জন্য ভূমিদস্যু দালাল চক্র সিন্ডিকেটের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন । যার কারণে দালাল চক্র সিন্ডিকেটের রোষানল পরে দালাল চক্রের দ্বারা বিভিন্ন সময় তথ্য ও মিডিয়া সন্ত্রাসের শিকার হয়ে হচ্ছেন । যে লোকটি একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো সেই ভূয়া সাংবাদিক মনিরের রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে একাধিক ফ্লাট বাড়ি ও নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স গ্রামের বাড়িতে বিঘা বিঘা জমি। ভূমি অফিসের দালাল ভূমিদস্যু মনিরের এই সম্পদের উৎস কি ? এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দৃষ্টি দিয়ে এই ভূমিদস্যু ও অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল ।
কে এই তথাকথিত সাংবাদিক ভূমি অফিসের দালাল মনির ?
এককালের রাজধানীর ফুটপাতের হকার তথাকথিত সাংবাদিক , ভূমিদস্যু, জমির জাল দলিল করার কারিগর , প্রতারক, চাঁদাবাজ ঢাকা ও আশপাশের এলাকার ভূমি অফিসের দালাল সিন্ডিকেট মাফিয়া সদস্যের নাম মনিরুজ্জামান মনির । বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার অজো পাড়াগাঁয়ে । প্রায় ২ দশক আগে অভাবের তাড়নায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঢাকা শহরে পাড়ি দেন । রাজধানী ঢাকাতে এসে ফুটপাতে ও বাসে বাসে হকারী শুরু করেন, কখনো ঝালমুড়ি , বাদাম, আবার কখনো ইলেকট্রিক ও এলার্জি বাল্ব হকারি করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রাতে ঘুমাতেন রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এক বস্তিতে । বস্তিতে থাকাকালী নাম লেখান বাংলাদেশ বাস্থহারা লীগের মিরপুর বস্তির কমিটিতে। বস্তিতে থাকাকালীন বিভিন্ন মেয়েদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে একাধিক বিবাহ করেন।
কুষ্টিয়া দৌলতপুরের জামাল উদ্দিনের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান মনির এক সময় মাঠে অন্যের জমিতে কাজ করতো সে ভুয়া সাংবাদিক । মনির বিয়ে করেছেন চারটি, তিনটা বউ তার বিভিন্ন অপকর্ম এবং প্রতারণার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। কুষ্টিয়া জেলা বাস্তহার লীগ কমিটির সদস্য তিনি , এর আগে এক লালন শিল্পীকে পটিয়ে বিয়ে করেছিলেন সে বউ ও তার প্রতারণায় অতিষ্ঠ হয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান। সেই লালন শিল্পীর পরিবারের পক্ষ থেকে এমনটাই জানান । কথিত সাংবাদিক মনিরের এই অপকর্মের বিষয়ে কথা বলার জন্য মনিরুজ্জামান মনির এর মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি ।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত