
ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বদিউল আলম বদিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যা, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ১৯টি মামলা।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আলোচিত হত্যা মামলাসহ ১৯টি মামলার আসামি বদিউল আলম বদি (৪৭) গ্রেফতার হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলার মিনকি ফান্দা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।
বদি উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল আউয়ালের ছোট ভাই এবং আলোচিত শুটার শামীমের বড় ভাই।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট দায়ের করা একটি অপহরণ মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট রাতে শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক শিবগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে অপহৃত হন। তাঁকে পার্শ্ববর্তী ধোবাউড়া থানার রংসিংহপুর বাজার এলাকায় আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ সময় শুটার শামীম মুক্তিপণের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা শফিকুলকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট ভুক্তভোগী পরিবার দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে।
পরদিন ২৫ আগস্ট শফিকুলের ভাই মো. ফারুক আহমেদ (৪৮) বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় শামীম আহমেদ ওরফে শুটার শামীম (৩৬), খোকন মিয়া (৩০), সোহেল ওরফে চান্দু সোহেল (৩৫), আবু ইমরান (৪০), মামুন মিয়া (৩০), জোনায়েদ মিয়া (৩২), রবিন মিয়া (৩৭) ও সিদ্দিক মিয়াসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বদির বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১৯টি মামলা রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় বদি অস্ত্র ও অর্থের জোগানদাতা ছিলেন কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। আপাতত অপহরণ মামলায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। রিমান্ড ও অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম জানান, বদির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো গুরুতর। তবে অন্য কোনো অপরাধে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে। গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া সহজ হবে।
দুই দশকে ১৯ মামলা
পুলিশি রেকর্ড (পিসিআর) অনুযায়ী, দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া ইউনিয়নের কাকড়াকান্দা গ্রামের সাত্তারের ছেলে বদিউল আলম বদির বিরুদ্ধে ২০০৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানায় ১৯টি মামলা হয়েছে।
২০০৫ সালের মে মাসে একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ার মধ্য দিয়ে পুলিশের নথিতে তাঁর নাম ওঠে। এরপর ২০১৫, ২০১৮, ২০২১, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এসব মামলার কয়েকটিতে তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা একটি হত্যা ও সহিংসতার মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট এবং একই বছরের ২০ জুলাই সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলায় হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর এবং ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি, জুন ও নভেম্বর মাসে দায়ের হওয়া একাধিক বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশে তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
তবে ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলায় ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।
পাশাপাশি ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মচারীকে আঘাত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলাতেও ২০২৪ সালের ১৫ জুন তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নিজ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত সাংমা হত্যা মামলা এবং আলোচিত দা মজিবর হত্যা মামলাতেও বদিউল আলম বদিকে অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত