
গজারিয়া থেকে ফিরে - বিশেষ প্রতিনিধ | রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভূমি অফিসের কর্মকর্তাও দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে ভূমি অফিসে আসা সেবা গ্রহীতারা , এর ফলে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলাধীন বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ঘুষ-দুর্নীতি এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে ।
ভূমি অফিসে আসা সেবা গ্রহীতাদের ফাইল আটকে টাকা আদায় করছে এমন গুরুত্বের অভিযোগ উঠেছে উক্ত ইউনিয়নের ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে । ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সেবা গ্রহণ গ্রহণ করতে আসা ব্যক্তিরা উক্ত ভূমি অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নানার অনিয়ম ও ঘুষ – দুর্নীতি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
এদিকে অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসটিতে নামজারি বা মিউটেশন, খতিয়ান সংশোধন ও খাজনা দাখিলাসহ বিভিন্ন সেবায় ব্যাপক ঘুষ, দুর্নীতি,দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, নথিপত্র গায়েব, এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে মিউটেশনের আবেদনের নথি যথা সময়ে সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে না পাঠিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার মতো দুর্নীতি ও অনিয়ম সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউনিয়নের এই ভূমি অফিসে ।
সেবাগ্রহীতাদের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ কার্যালয়ে জালিয়াতি ও হয়রানি করা হয় প্রতিনিয়ত। বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট গড়ে তোলে ভূমি অফিস এ নানান অপকর্ম করে ঘুষ- দুর্নীতি মাধ্যমে হাতে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা ।
এই ভূমি অফিসে সচরাচর যেসব দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়, তা নিচে দেওয়া হলো:
ঘুষ গ্রহণ: নামজারি (মিউটেশন), রেকর্ড সংশোধন, নাম পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফির চেয়ে অনেক বেশি টাকা ঘুষ দাবি করা,
দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে কর্মকর্তা ও দালালের যোগসাজশে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে টাকা আদায় নামজারি বা অন্যান্য আবেদনের বিপরীতে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে এমন গুরুতর অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা শারমিন আক্তার ও কয়েকজন কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
ইচ্ছাকৃত দীর্ঘসূত্রিতা: সময় মতো কাজ না করে ফাইল আটকে রেখে ঘুষের জন্য চাপ দেওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে
নথিপত্র গায়েব বা জালিয়াতি: ভূমি রেকর্ড বা খতিয়ান ইচ্ছাকৃতভাবে গায়েব করা বা ভুল রেকর্ড তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে অহরহ হয়রানি করছে সেবা প্রার্থীদের।
খাজনা আদায়ে অনিয়ম: সরকারি খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধের ক্ষেত্রে রসিদ না দেওয়া বা বেশি টাকা নেওয়া উক্ত ইউনিয়ন ভূমি অফিসটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ।
ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার ও তার কয়েকজন সহযোগীর ঘুষ দুর্নীতি নানান ও নিয়মের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবগত করার পরও এখনো তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেড়েই চলছে তার অনিয়ম অপকর্মের পরিধি।
জমি বেদখলে সহায়তা: জাল দলিল বা ভুয়া কাগজপত্রের তৈরি করে মূল মালিকের জমি অন্যের নামে নামজারি করে দেওয়া সবই হচ্ছে এখানে
তথ্য গোপন করা: জমির মালিককে সঠিক তথ্য না দিয়ে হয়রানি করা মত গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলছে দুর্নীতির পরিধি। এই বিষয়ে জানতে বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি । এদিকে টিআইবি-র তথ্যমতে, ভূমি অফিস গুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই বিষয়ে সরকারের উচিৎ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভূমি অফিসের নানান অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত