
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি মহল এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের জবাব দেওয়া হবে। দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের মিল-কারখানা ধ্বংস করতে চায়। অথচ এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক এবং তাঁদের সন্তানরা। তাই শিল্পকারখানা রক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিকরা আগের চেয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে নির্বাচিত সরকার দিনরাত কাজ করছে। বিএনপি বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে।
এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালীতে পথসভা শেষে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত