
ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) শেষ হওয়ার আগেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফিনল্যান্ডে গুগলের দুটি ডেটা সেন্টারের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় গাছ কাটা, মাটি সরানো ও সড়ক নির্মাণের মতো কাজ করায় পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
ফিনল্যান্ডের লাইসেন্সিং অ্যান্ড সুপারভিশন অথরিটি (এলভিভি) জানিয়েছে, পরিবেশগত মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্প এলাকায় পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো প্রস্তুতিমূলক কাজ করা যাবে না।
উত্তর ফিনল্যান্ডের মুহোস ও কাজানি এলাকায় ডেটা সেন্টার দুটি নির্মাণ করছে গুগল। দেশটির বিভিন্ন স্থানে ডেটা সেন্টার নির্মাণে গুগলের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ এসব প্রকল্প। অনলাইন অবকাঠামোর জন্য ডেটা সংরক্ষণের জায়গার চাহিদা বাড়ায় ফিনল্যান্ডে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার এলভিভি জানায়, মুহোস ও কাজানি প্রকল্পে পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে—এমন প্রস্তুতিমূলক কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে গুগলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান টুইকে ফিনল্যান্ড ওওয়াইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে এসব কাজ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আগামী বুধবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যাও দিতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।
কাটা হয়েছে শত শত হেক্টর বন
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এখনো চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে গাছ কাটা, মাটির ওপরের স্তর সরিয়ে ফেলা এবং সড়ক নির্মাণের মতো কাজ রয়েছে।
ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশনের তথ্য অনুযায়ী, মুহোস এলাকায় প্রায় ৩৩০ হেক্টর বনভূমি কেটে ফেলা হয়েছে। কাজানি এলাকাতেও প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে গাছ কাটার কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলভিভির পরিবেশ বিভাগের প্রধান তোম্মি মুইলু বলেন, এসব কার্যক্রম পরিবেশে পরিবর্তন ঘটাবে। আর এসব পরিবর্তনের প্রভাব চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করাই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
‘মুহোসে এখন আর বন নেই’
ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশন বলছে, দুই প্রকল্প এলাকায় পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা একটি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংগঠনটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাপানি ভেইস্তোলা বলেন, মুহোসের প্রকল্প এলাকা এখন আর বন নেই; এটি বালুময় এলাকায় পরিণত হয়েছে।
ফিনল্যান্ডে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বাজার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ছোট পৌরসভাগুলোর সীমিত সক্ষমতা এবং পরিবেশগত বিষয়ে পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে জানান তিনি।
গুগলের বক্তব্য কী
গুগল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বুঝতে পারছে। নিজেদের উচ্চমানের পরিবেশগত নীতির তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি হয়েছে বলেও স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এলভিভির পর্যালোচনা করে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলেও জানিয়েছে গুগল।
তবে গুগলের দাবি, তারা বন আইন মেনেই সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করেছে। প্রকল্প এলাকায় প্রকৃতির ওপর প্রভাব কমাতে বিভিন্ন জরিপ ও সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
মুহোসে ১৩০ হেক্টর এলাকায় নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ভূমি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং চলতি বছরের শেষের দিকে তা শেষ হওয়ার কথা। গুগল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মানলে জরিমানা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে এলভিভি।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত