
জেলা প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ৪২ কিশোরকে আটক করা হলেও পরে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম।
পুলিশ জানায়, পুনিয়াউট, দাতিয়ারা, রেলস্টেশন, অবকাশ পার্ক, কান্দিপাড়া, টেংকের পাড় ও মেড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
আটক ৪২ কিশোরের বয়স বিবেচনায় এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অভিভাবকদের অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর শহরের শেখ হাসিনা সেতু, শিমরাইলকান্দি, পুনিয়াউট, দাতিয়ারা, রেলস্টেশন, অবকাশ পার্ক, কান্দিপাড়া, মুক্তমঞ্চ, মধ্যপাড়া-শান্তিবাগ, ফুলবাড়িয়া, বাগানবাড়ী, বডিংমাঠ, মুন্সেফপাড়া, বিরাসার বাসস্ট্যান্ড, টেংকের পাড়, কুমারশীল মোড় ও মেড্ডা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
এসব এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সদর মডেল থানার ওসি খাইরুল আলম বলেন, সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে ৪২ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং অভিভাবকদের অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কিশোরদের অকারণে বাইরে আড্ডা দেওয়া কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান ওসি খাইরুল আলম।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত