
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত রাখতে সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেখানে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে সিউল।
তবে হরমুজ প্রণালিতে সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন নাকচ করেছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার জেটিবিসি, এমবিসিসহ কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, বছরের শেষ হওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিউল। এ বিষয়ে চলতি মাসেই দেশটির সংসদের অনুমোদন চাওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি রসদ সরবরাহকারী জাহাজ এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সক্ষম একটি ইউনিট মোতায়েন।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তার ধরন ও পরিধি নিয়ে আলোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় দক্ষিণ কোরিয়া কীভাবে বাস্তবসম্মত অবদান রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সামরিক পদক্ষেপও বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর একটি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া, কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক প্রস্তুতি এবং সংসদীয় অনুমোদনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না—এমন দাবিও নাকচ করেছেন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবসম্মত অবদানের বিষয়ে সিউল দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা করে আসছে।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াং আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টি আলোচনা করতে পারেন।
এর আগে গত আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছিলেন।
সূত্র: রয়টার্স

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত