
ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্কের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ভোট হয়। তার মেয়াদ বাড়ানোর বিপক্ষে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ ভোট দেয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্রও।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে একটি পোস্ট দেয় জাতিসংঘে ফ্রান্সের মিশন। ওই বার্তায় মানবাধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পোস্টটি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ফ্রান্স বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সভা থেকে বেরিয়ে যান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ফরাসি মিশনের ওই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনে ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত প্রার্থীর নিয়োগ আটকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল মার্কিন সরকার।
এরপর বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন। এতে বলা হয়েছে, ২৫ জুলাই এক্সে প্রকাশিত ওই বার্তার জন্য তারা দুঃখিত।
একই সঙ্গে মিশনটি স্পষ্ট করেছে, দুই দেশের মতপার্থক্য ছিল একটি নির্দিষ্ট ভোটকে কেন্দ্র করে; মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে নয়।
এ বিষয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা ফ্রান্সের বিবৃতিটি লক্ষ্য করেছেন এবং এর প্রশংসা করছেন।
অভিন্ন মূল্যবোধ ও স্বার্থ সমুন্নত রাখতে ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ করার আশাও প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে ফরাসি দৈনিক ল্য মোঁদ জানিয়েছে, ফ্রান্সের দুঃখ প্রকাশের ফলে ওয়াশিংটনে দেশটির মনোনীত পরবর্তী রাষ্ট্রদূত অরেলিয়েঁ লেশেভালিয়ের নিয়োগ অনুমোদনের পথ সহজ হতে পারে।
ফ্রান্স চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তাকে ওয়াশিংটনে পাঠাতে চেয়েছিল। তবে ২৫ জুলাইয়ের ওই পোস্টের পর থেকে তার নিয়োগ-প্রক্রিয়া আর এগোয়নি।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত