সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইনক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইনক বলেন, মহাকাশে বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঠিক কবে সেটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এর আগে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসছিলেন। এ ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীনের সামরিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তারা সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যৎ কোনো সংঘাতে দেশ দুটি মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা কিংবা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে। ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথ থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের হামলা প্রতিহত করাই এর মূল লক্ষ্য। পরিকল্পিত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মোতায়েনের কথাও রয়েছে।

১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ পরাশক্তিগুলো মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটে হামলা কিংবা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করার সক্ষমতাও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও দিকনির্ণয়ের ক্ষেত্রে এসব স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে ইউএস স্পেস ফোর্সের ভূমিকা আরও বাড়ানোর কথা বলেন। এতে শুধু মার্কিন মহাকাশ সম্পদ রক্ষা নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ গঠন করে। সাত দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি দেশটির সামরিক বাহিনীর নতুনতম শাখা। মহাকাশে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ, বিশেষ করে যোগাযোগ ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত শত শত স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখাই বাহিনীটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্রের ভাষ্য, মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অর্থ হলো প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে তা ব্যাহত, দুর্বল বা ধ্বংস করার ব্যবস্থা নেওয়া। যুদ্ধের সময় এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—উভয় ধরনের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের পর দুটি রুশ স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত ১২টি স্যাটেলাইটের যোগাযোগব্যবস্থায় নজরদারি চালিয়ে থাকতে পারে।

এ ধরনের নজরদারির মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্যাটেলাইটে পাঠানো গোপন তথ্য জানার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি তাত্ত্বিকভাবে কোনো স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হতে পারে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের দাবি, সামরিক শক্তি আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনও মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে। রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক ও প্রকাশক
Editor & Publisher

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত