
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হরমুজ প্রণালির পর এবার বাব-আল মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকশ কর্মকর্তা বর্তমানে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধের লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযান সমন্বয়ে তারা সহায়তা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী করার সময়ই আইআরজিসির সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দিনের লড়াইয়ের পর হুথিরা বাব-আল মান্দেব থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের কৌশলগত বন্দর মোখা দখল করে নেয়। রয়টার্স বিভিন্ন সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হুথিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে।
এতে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে এরই মধ্যে জাহাজ চলাচলে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
বাব-আল মান্দেব কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাব-আল মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ।
প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয়—দুটিই বাড়তে পারে।
মোখা দখলের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কাছাকাছি সরাসরি অবস্থান তৈরি করেছে হুথিরা। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, হুথিদের এই অগ্রযাত্রা সংঘাতকে নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে ঝুঁকির মধ্যে থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাতের হুমকির কারণে পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে।
ইরানের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
ইয়েমেনে আইআরজিসির শত শত সদস্য অবস্থান করছেন—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি তেহরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী, ইরান ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হুথিদের উপকূলীয় অভিযান ইরানের আইআরজিসির সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে।
তবে ইরান হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথিরাও বলে আসছে, তাদের সামরিক সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। আইআরজিসির বড় পরিসরে সদস্য মোতায়েন করা হলে আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকি সৃষ্টিকারী অভিযানে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা আরও স্পষ্ট হবে।
চাপে পড়তে পারে জ্বালানি ও নৌবাণিজ্য
একই সময়ে হরমুজ ও বাব-আল মান্দেব প্রণালিতে সংকট তৈরি হলে জ্বালানি ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান নৌপথ। অন্যদিকে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের মধ্যে নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব-আল মান্দেব প্রণালি।
দুই নৌপথই ঝুঁকির মধ্যে পড়লে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে চলাচল করতে হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে বিমা খরচও বেড়ে যেতে পারে।
এরই মধ্যে বাজারে এর প্রভাব দেখা গেছে। হুথিদের অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠেছে।
তবে এর কৌশলগত ঝুঁকি ইয়েমেনের গণ্ডির চেয়েও বড়। আরব উপদ্বীপের দুই প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথে ইরানের প্রভাব বাড়লে একই সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ (সিএনএন, রয়টার্স)

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত