
ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ব্রিটেনের কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ভাবছে লন্ডন। জবাবে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার বলেছেন, ব্রিটেন ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তার দেশও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। মঙ্গলবার ইসরাইলি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্রিটেন এমন পদক্ষেপ নিলে তা হবে ‘বড় ধরনের ভুল’।
এর আগে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছিল, পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ আরও কিছু পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইল বিষয়ে সরকারের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ই-১ প্রকল্প ঘিরে উত্তেজনা
ইসরাইলের প্রস্তাবিত ই-১ (E1) বসতি প্রকল্পকে ঘিরেই মূলত নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ব্রিটেনের আশঙ্কা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম হাউস অব কমন্সে বলেছেন, ই-১ প্রকল্প নিয়ে ইসরাইলের সাম্প্রতিক তৎপরতায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকল্পটি এগিয়ে নিলে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইসরাইল ইতোমধ্যে ই-১ এলাকায় বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
‘লাল সীমা’ অতিক্রম
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ই-১ প্রকল্পের মাধ্যমে ইসরাইল এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেটিকে ব্রিটেন আন্তর্জাতিক নীতির ‘লাল সীমা’ হিসেবে দেখছে।
তিনি জানান, পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন, নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ কিংবা বিজ্ঞাপনের মতো বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বন্ধের উপায় পর্যালোচনা করছে সরকার।
মিলিব্যান্ড বলেন, ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে হুমকিতে ফেলে—এমন কোনো পদক্ষেপ ব্রিটিশ সরকার মেনে নেবে না।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইল বিষয়ে সরকারের একটি সমন্বিত পদক্ষেপের প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত
ব্রিটিশ সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।
ব্রিটিশ মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও বসতি-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ই-১ প্রকল্পসহ অবৈধ বসতি সম্প্রসারণেরও বিরোধিতা করছে তারা।
তিনি বলেন, ইসরাইল সরকারকে ব্রিটেনের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে এবং ই-১ প্রকল্প বন্ধে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা এলে পাল্টা ব্যবস্থা
ব্রিটেনের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আলোচনার মধ্যেই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ব্রিটেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ইসরাইলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করবে।
এতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রিটেনের মতে, বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা। অন্যদিকে ইসরাইলও জানিয়ে দিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত