
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে দিনভর পুলিশের একাধিক বাধা, ধাক্কাধাক্কি ও দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত রাতে অভিযোগ দায়েরের অনুমতি পায় দলটি।
বুধবার (৩০ জুলাই) ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযোগ জমা দেন।
জানা যায়, রাত ৮টায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার তুষার।
এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদেলের সভাপতি রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেওয়া হয়েছে। সবাই হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছের অনুসারী। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে তাদের ল্যাপটপ থেকে ২০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি নিয়ে গেছে। নগদ ৫ লাখ টাকা ও ৫০ লাখ টাকার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিরাপত্তা জনিত কারণে এনসিপির নেতাকর্মীদের হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সারাদেশে জুলাই পদযাত্রা করছি। হবিগঞ্জে পদযাত্রার সময় হামলা হয়েছে। একটা শিশুর চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে। যেমনটা শেখ হাসিনা শত শত শিশুর চোখ নষ্ট করেছিল। আমরা বুঝতে পারছি এ সরকার অগণতান্ত্রিকভাবে স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে। বিএনপির দলীয় হুইপ যিনি সন্ত্রাসী পালছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা করেছেন। আমরা এখনও কোনো গ্রেপ্তার দেখিনি। আজ আমরা মামলার জন্য আসতে চেয়েছি আমাদের কে প্রথমে আসতে দেওয়া হয়নি। বাধা দেওয়া হয়েছে কয়েক দফা। আমাদের মাহমুদা মিতুর গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমরা বলেছি মামলা না করে যাব না। একটা পর্যায়ে পুলিশ আমাদেরকে এই স্টেশনে নিয়ে এসেছে। আমরা মামলা করেছি। আপনারা দেখেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে স্থানীয় এমপি কি আতঙ্ক তৈরি করেছে। বালুর ট্রাক দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বাসা আটকে দেওয়া হয়েছিল আর আজ তারাই ট্রাক দিয়ে পথ আটকে দিয়েছে। গত ১৬ বছর তাদের হিম্মত হয়নি ট্রাক সরানোর। আজ রাতের মধ্যেই পুলিশ আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
গত ২৮ জুলাই এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জে এনসিপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের ঢাক দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের ঢাক দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হবিগঞ্জের পৌর এলকায় ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। পরে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে ১৪৪ ধারার মধ্যে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্য গাড়ি বহর নিয়ে রওনা হন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
প্রথমে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এনসিপির গাড়ি বহর শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের শ্রীমঙ্গল ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িবহরের গতিরোধ করে। এসময় খালি ট্রাক সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখে পুলিশ। একপর্যায় পুলিশের সঙ্গে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয় দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ দলের নেতাকর্মীদের। পরে পুলিশকে ঠেলে গাড়ি বহর সামনে নিয়ে আসেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। তবে কিছু দূর যাওয়ার পর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকায় ফের পুলিশের বাঁধায় আটকা পরে গাড়ি বহর।
পুলিশের বাঁধা অতিক্রম করে সেখান থেকে একটু দূর যাওয়ার পর কামাইছড়া এলাকায় ফের পুলিশের ব্যারিকেডে আটকা পড়েন এনসিপির গাড়ি বহর। এসময় গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় বসে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ এনসিপির নেতাদেরকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করার অনুমতি প্রদান করে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত