
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না কারখানাগুলো। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি সময়মতো রপ্তানি পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে বিদেশি ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার পোশাক ও অন্যান্য শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও মেশিন স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।
প্যারাগন সিরামিকসের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক রুকুনুজ্জামান জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন। রাজেন্দ্রপুর থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক কারখানা একই সমস্যায় পড়েছে।
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ডাইং, স্পিনিং ও সাইজিংয়ের মতো গ্যাসনির্ভর বিভাগ। গাজীপুরের ফুয়াদ স্পিনিং মিলসে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৭টি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানার ডাইং বিভাগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ কারখানা তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি থাকছে। কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক এলাকার কারখানাগুলোতে সংকট সবচেয়ে তীব্র।
গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে শিল্পকারখানাগুলোকে। এতে উৎপাদন খরচ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দিয়েও অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।
মৌচাক এলাকার সাদমা ফ্যাশন লিমিটেডের ডাইং বিভাগের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অর্ডার থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প দেশ বেছে নিতে পারেন।
এরই মধ্যে গাজীপুরের ফু-ওয়াং ফুড গ্যাস সংকট ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ১৯৯৭ সালে কারখানা চালুর পর এই প্রথম প্রতিষ্ঠানটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত