
ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বড় ধাক্কা খেলেও ফাইনালের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে বাংলাদেশের। ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে লড়াইয়ে টিকে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
তবে ২০২৭ সালে লর্ডসে ফাইনাল খেলতে হলে বাকি ছয় টেস্টে দারুণ পারফরম্যান্স করতে হবে বাংলাদেশকে। শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই হবে না, নজর রাখতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলের দিকেও।
বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ
৬ টেস্টে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ পয়েন্ট। পিসিটি ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বাকি ছয় টেস্টের মধ্যে দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলবে বাংলাদেশ।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচ জিততে পারলে বাংলাদেশের পিসিটি ৬০ শতাংশে উঠবে। তবে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে আরও ভালো ফল প্রয়োজন হতে পারে।
এই চার জয়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে একটি জয় পেলে বাংলাদেশের পিসিটি দাঁড়াবে ৬৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে। তখন ফাইনালের দৌড়ে শান্তদের অবস্থান অনেকটাই শক্ত হবে।
অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড এগিয়ে
১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ হারে ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। দলটির পিসিটি ৮০ শতাংশ।
দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হার নিয়ে ৭৫ শতাংশ পিসিটিতে দ্বিতীয় সারির শক্ত অবস্থানে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের পিসিটি ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বাকি ম্যাচগুলোর ফল তাই বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এসব দলের পারস্পরিক লড়াইয়ে পয়েন্ট হারানো বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
ভারতেরও রয়েছে সুযোগ
১০ ম্যাচে ৫ জয়, ৪ হার ও ১ ড্রয়ে ভারতের পিসিটি ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি আট টেস্টে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।
বাকি আট ম্যাচে ৬ জয় ও ২ হার হলে ভারতের পিসিটি দাঁড়াবে ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৭ জয় ও ১ হার হলে তা বেড়ে হবে ৬৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতেরও ফাইনালের দৌড়ে উঠে আসার সুযোগ রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সামনে কঠিন লড়াই
৫ ম্যাচে মাত্র ১ জয় পাওয়া শ্রীলঙ্কার পিসিটি ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি সাত টেস্টে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে তারা।
ফাইনালের লড়াইয়ে ফিরতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে প্রায় নিখুঁত ফল করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে।
ইংল্যান্ড-পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থা কঠিন
১৪ ম্যাচে ৫ জয়, ৮ হার ও ১ ড্রয়ে ইংল্যান্ডের পিসিটি ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে ১৪ পয়েন্ট হারানো দলটির ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিসিটি আরও কম—২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বাকি দুই ম্যাচও বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই ম্যাচ জিতলেও তাদের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৩২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
পাকিস্তানের পিসিটি ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। বাকি ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতলেও সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশে উঠতে পারবে তারা।
বাংলাদেশের নজর এখন চার ম্যাচে
ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ ঘরের মাঠের চার টেস্ট—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি।
এই চার ম্যাচে শতভাগ সাফল্য পেলে ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অন্তত একটি জয় পেলে সেই সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠার সমীকরণ নির্ভর করবে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের ফলের ওপরও। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও বাংলাদেশের সামনে এখনো দরজা খোলা—তবে সেই দরজা দিয়ে লর্ডসে পৌঁছাতে হলে বাকি ছয় টেস্টে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে শান্তদের।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত