
ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কারাগারের নিয়ম মেনে তাদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। এমন নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরোর আদালত আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে এসব নির্দেশ দেন।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন ইমরান খান ও বুশরা বিবি। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হয়েছে।
ইমরান খানকে একাকী বন্দী রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা
আদালত বলেছেন, কারাগারের বিধি অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।
ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এসব নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
ইমরানের পরিবার ও সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কারা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বুশরার কারাবাস
দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে যান বুশরা বিবি। প্রায় নয় মাস পর ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ফের গ্রেপ্তার হন বুশরা। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনিও আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।
ইমরানের চিকিৎসা নিয়েও টানাপোড়েন
ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও তার পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ চলছে।
গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরিবার ও সমর্থকেরা কয়েক মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া চোখের সমস্যা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর ইমরানের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে, তাকে পিআইএমএসে নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনালে রাখার কথা বলা হয়েছিল।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইমরানকে পিআইএমএসে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
এ ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের বেঞ্চে ওই শুনানি হবে। বেঞ্চে থাকবেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।
একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত