
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইসরায়েলের নতুন জোট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট কিংবা আইজেনকোটের বিরোধী জোট—কোনোটিই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে আইজেনকোটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।
দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আইজেনকোট লিখেছেন, ‘এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। এ দায়িত্বের যোগ্য হয়ে উঠতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে।
এবারের নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থী ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি মিত্ররা মোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি ও তার জোটের অন্য তিনটি ইহুদি বিরোধী দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।
নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট। আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির কারণে জোট দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অবস্থানে রয়েছে।
তবে নির্বাচনের আগে একটি দল ছাড়া অন্য ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলো আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে আইজেনকোটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের বিষয়ে পরামর্শ সভায় আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭টি এবং নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬টি সুপারিশ জমা পড়ে। পরে প্রেসিডেন্ট তার সিদ্ধান্তের কথা দুজনকেই জানান।
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বরং যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি, প্রেসিডেন্ট তাকেই এ দায়িত্ব দিতে পারেন।
বর্তমান নির্বাচনী ফলাফলে সরকার গঠনের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সরকার। দ্বিতীয়ত, আইজেনকোটের জোট থেকে সংসদ সদস্যদের বের করে এনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী সরকার। তৃতীয়ত, আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোটের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন।
যদিও আইজেনকোট ও তার জোটের অধিকাংশ সদস্য অতীতে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। তবে এ পথও বেশ জটিল বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে টানা তিনটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টজ ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সমঝোতা হয়।
এদিকে, পুনরায় নির্বাচন এড়ানো এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই সরকার গঠনে দলগুলোকে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতায় আসতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশটিকে পরপর পাঁচটি নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত