
বদরুল আলম নাবিল | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পদ্মা সেতুর পূর্ণ অর্থনৈতিক সুফল কাজে লাগাতে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮) ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকাস্থ পটুয়াখালী জার্নালিস্টস ফোরামের (পিজেএফ) সভাপতি বদরুল আলম নাবিল। তাঁর মতে, প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এক বক্তব্যে বদরুল আলম নাবিল বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগবিচ্ছিন্নতা অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনো দুই লেনের হওয়ায় যানজট, দুর্ঘটনা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়ের অপচয়সহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হলেও ভাঙ্গার পর দুই লেনের সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রত্যাশিত গতিশীলতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ঈদ, পূজা ও পর্যটন মৌসুমে যানজটের কারণে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা জরুরি।
বদরুল আলম নাবিল বলেন, ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ সড়কের সক্ষমতা বাড়লে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বরং আঞ্চলিক উৎপাদন ও বাণিজ্যব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে।
তিনি আরও বলেন, ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মিত হলে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটকদের যাতায়াত আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। এতে পর্যটকের আগমন বাড়ার পাশাপাশি হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসার প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
পায়রা সমুদ্রবন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে পিজেএফ সভাপতি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে পায়রা বন্দরের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে বন্দরের সঙ্গে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও কার্যকর হবে। এতে পরিবহন সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প ও লজিস্টিকস খাতের বিকাশ ঘটবে।
কৃষি ও মৎস্য খাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, শাকসবজি, ফলমূল এবং নদী ও সাগরের মাছ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যানজট ও ধীরগতির কারণে পচনশীল পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় উৎপাদকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। উন্নত মহাসড়ক পণ্য পরিবহনে গতি বাড়িয়ে এ সমস্যা কমাতে সহায়তা করবে।
তাঁর মতে, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে এর আশপাশে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিকস হাব, কোল্ড স্টোরেজ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং তরুণদের নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ বাড়বে।
সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ সড়ক বিভাজক, নিরাপদ প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা, আন্ডারপাস, ওভারপাস এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সড়ক অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বদরুল আলম নাবিল বলেন, ভাঙ্গা–কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক কোনো সাধারণ অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পদ্মা সেতুর সুফলকে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে রূপান্তর করতে হলে এ মহাসড়কের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর প্রত্যাশা, যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই মহাসড়ক দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমৃদ্ধির নতুন পথ তৈরি করবে।
লেখক: বদরুল আলম নাবিল
সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক
সভাপতি, ঢাকাস্থ পটুয়াখালী জার্নালিস্টস ফোরাম (পিজেএফ)

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত