
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সমবায় আন্দোলনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতিমুক্ত সমিতি গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে সমবায় খাতের উন্নয়নে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
সমবায় সমিতিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি সমিতি সফলভাবে কাজ করছে। সমবায় আন্দোলনকে সফল করতে হলে সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯০৪ সালে এ আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের সঙ্গে সমবায় আন্দোলনকে সম্পৃক্ত করে তিনি কাজ করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে সমবায় আন্দোলন নতুন গতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ ছাড়া সমবায় খাতের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান ও কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমবায়ের অতীত সাফল্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমবায়ের সেই অবস্থান এখন আর নেই। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। আগের মতো সমবায় আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব ও মনোযোগও দেখা যাচ্ছে না।
এ অবস্থা পরিবর্তনে সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এনজিও কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে বিস্তৃত হয়েছে। এর প্রভাবেও সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। এখন সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে। তাই সমবায় সমিতিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমবায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে বিদ্যমান সংকটের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করলেও সেগুলোর যথাযথ বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সমবায় অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে। প্রয়োজনে সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সমিতিগুলোকে সহযোগিতা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এ ঘাটতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায়ের মূল দর্শন হচ্ছে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সম্প্রতি বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছিল। সেখানে অত্যন্ত চমৎকার কাজ হচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠানেও কয়েকটি সফল সমবায়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখে তিনি আনন্দিত হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থেই ভালো কাজ করছে।
সমবায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা এখনো সমবায় আন্দোলনকে ধরে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এ আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সমবায়ের কার্যক্রম ও সাফল্য দেশের মানুষের সামনে ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির।
সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত এবারের জাতীয় সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠান শেষে সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত