
ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে ফোরদোকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বা মাদক কারখানা বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ইরানের ওই স্থাপনায় কি সত্যিই মাদক উৎপাদনের কোনো কার্যক্রম ছিল?
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এ মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ওকলাহোমায় এক সমাবেশে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন ট্রাম্প। ওই হামলা গত বছরের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে পরিচালিত হয়েছিল। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি ছিল ফোরদো।
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে ফোরদো স্থাপনার বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে বোমা ঢোকানোর প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। এ সময় হঠাৎ তিনি ফোরদোকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বলে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে ভুল হয়েছে—এমন কোনো সংশোধন না করে পরে আরও কয়েকবার ‘মাদক ও পারমাণবিক কারখানা’ বলে একই ধারণা তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবিতে বিস্মিত বিশেষজ্ঞ
কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের সহপরিচালক জেমস অ্যাক্টন সিএনএনকে দেওয়া এক ই-মেইলে বলেন, ‘এটা আমার জন্যও নতুন।’
অ্যাক্টনের মতে, ফোরদো স্থাপনা কখনও মাদক উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই। এমনকি সেখানে মাদক উৎপাদন করা হতো—এমন কোনো অভিযোগের কথাও তিনি আগে শোনেননি।
তাহলে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বললেন কেন?
ট্রাম্পের মন্তব্যের কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সিএনএনের বিশ্লেষণে সম্ভাব্য একটি কারণ সামনে এসেছে।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার প্রসঙ্গে যাওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবৈধ মাদক পাচার ঠেকাতে তার প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলছিলেন। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন তিনি।
এরপরই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গ শুরু করেন ট্রাম্প। ফলে আগের প্রসঙ্গে বারবার ব্যবহৃত ‘ড্রাগ’ শব্দটি ভুলক্রমে পরবর্তী বক্তব্যে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করেছে সিএনএন।
তবে এটি নিছক কথার ভুল ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।
ভুল বলেও কেন সংশোধন করলেন না?
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য বক্তব্যে কোনো শব্দ বা তথ্য ভুল বলার পর ট্রাম্প অনেক সময় তা সরাসরি সংশোধন না করে বরং নিজের বক্তব্য আরও জোর দিয়ে উপস্থাপন করেছেন—এমন নজির রয়েছে।
ফোরদোকে ‘মাদক কারখানা’ বলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথমবার ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বলার পর বক্তব্য সংশোধনের পরিবর্তে পরবর্তী বাক্যগুলোতেও তিনি ‘মাদক ও পারমাণবিক কারখানা’ প্রসঙ্গটি ধরে রাখেন।
তবে এটি সিএনএনের বিশ্লেষণ; ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউস এমন ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেয়নি।
রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল কি কারণ হতে পারে?
ট্রাম্পের মন্তব্যের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যার কথা বলেছেন জেমস অ্যাক্টন।
ইরান অতীতে পারমাণবিক চুল্লিতে ‘রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল’ বা তেজস্ক্রিয় ওষুধ তৈরির সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছে। এসব পদার্থ বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
তবে ফোরদোর ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যাও প্রযোজ্য নয় বলে মনে করেন অ্যাক্টন। কারণ ফোরদো মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র; সেখানে কোনো পারমাণবিক চুল্লি নেই।
হোয়াইট হাউসও দেয়নি স্পষ্ট ব্যাখ্যা
ট্রাম্পের মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ট্রাম্পের নিজের মন্তব্যের দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফলে ফোরদো বা ইরানের অন্য কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় মাদক উৎপাদনের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ট্রাম্পের কাছে রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞ জেমস অ্যাক্টনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফোরদোতে মাদক উৎপাদনের কোনো বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা তার জানা নেই। আর ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক আগেই অবৈধ মাদক পাচার নিয়ে আলোচনা হওয়ায়, ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ শব্দটি সেখান থেকে ভুলক্রমে চলে আসার সম্ভাবনাকে একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ট্রাম্প বা তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
সূত্র: সিএনএন

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত