
ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান—দুই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে তৎপরতা বেড়েছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক করেছেন।
শুক্রবার ট্রাম্পের অবকাশকেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। বৈঠকটি আগে থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।
তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এতে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অথবা সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে।
ক্যাম্প ডেভিডে এ ধরনের বৈঠক সর্বশেষ হয়েছিল ২০২৫ সালের জুনে, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে। ফলে এবারও ইরান ও ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরানে ফের সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতিও চলছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ এবং অতিরিক্ত মেরিন সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এতে সর্বোচ্চ প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা যুক্ত হতে পারে। এসব বাহিনী নভেম্বরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, নভেম্বরের শুরুতে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আবার হামলা চালানো হতে পারে। তবে ২ অক্টোবর আলাবামায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হতে পারে এবং সম্ভবত মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এর অবসান ঘটবে।
হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অচলাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, উভয় পক্ষ কূটনীতির কথা বললেও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য ও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো রয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন শর্ত দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এসব প্রস্তাবের কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক সংঘাত আবার বড় আকারে শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে চায় সৌদি
ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের এলাকা পুনর্দখলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সৌদি অনুরোধে সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে এ ধরনের পদক্ষেপের ব্যাপারে অনাগ্রহী। তবে অভিযান জটিল পরিস্থিতিতে পড়লে তার অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনে ১ লাখের বেশি স্থলসেনার অংশগ্রহণে বড় ধরনের অভিযান প্রস্তুত করছে সৌদি আরব। এতে সৌদি বিমান হামলাও থাকতে পারে। অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
একসঙ্গে দুই ফ্রন্টে চাপ
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযান—দুই সম্ভাবনাই একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন সামরিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে পড়লে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু হতে পারে। অন্যদিকে ইয়েমেনে বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন সংঘাত শুরু হলে লোহিত সাগর ও বৈশ্বিক বাণিজ্যপথেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতেই শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কয়েক ঘণ্টার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত