
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরী নীতিরই ধারাবাহিকতা। ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরানে সংঘটিত অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর সময় নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে ওয়াশিংটন তাদের ‘আধিপত্যবাদী’ নীতির ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট করেছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব নিষেধাজ্ঞা সরাসরি ইরানি নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলেও দাবি করেছে দেশটি।
তেহরান বলেছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক আগ্রাসন একই নীতির ভিন্ন রূপ। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের নীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এমন নীতি বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেছে ইরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখেও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান দৃঢ় থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের তেল পাচার নেটওয়ার্ক, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও বিভিন্ন আড়াল করা কোম্পানিকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে আর্থিক, ব্যবসায়িক বা সরকারি সহায়তা দিলে সেই দেশকেও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তার দাবি, ইরানকে চুক্তিতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তেহরান তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষিত পদক্ষেপের সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি একে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই ইরানের ওপর নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তেজনাও বাড়ছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না তেহরান।
ইরানের দাবি, ওই প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
সূত্র: এএনআই

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত