
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কৌশলগত ই-ওয়ান এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন বসতি নির্মাণে ইসরায়েলের দরপত্র আহ্বানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও কানাডা।
এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরে যখন চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে, তখন নতুন বসতি নির্মাণের উদ্যোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ শান্তির সম্ভাবনাকে আরও দূরে ঠেলে দেবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ই-ওয়ান এলাকায় বসতি নির্মাণ হলে পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের অন্যান্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে স্বাধীন ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতিসংঘের মহাসচিবও এই প্রকল্পকে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে সতর্ক করেছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইসরায়েলের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিরোধিতা ও আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যেই ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় গত বছর অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি বসতি ইউনিটের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪টির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। পূর্ব জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এর আগে এ প্রকল্পকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা নস্যাতের পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই সময়সীমা পড়ায় নির্বাচনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও প্রকল্পটি বাতিল করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েল প্রায় ১৬০টি বসতি স্থাপন করেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছেন। একই অঞ্চলে বসবাস করছেন প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি।
ই-ওয়ান প্রকল্পের বিরোধীদের আশঙ্কা, এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ফলে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হবে।
সূত্র: বিবিসি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত