
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইহুদি বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা।
এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ইসরায়েলের এ উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার পশ্চিম তীরে ১ হাজার ২৩৪টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েল।
নতুন এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু ‘ই-১’ এলাকা। পূর্ব জেরুজালেম ও ‘মালে আদুমিম’ বসতির মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‘ই-১’ এলাকায় বসতি নির্মাণের উদ্যোগকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলের কয়েকজন মিত্র।
তাদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম, রামাল্লাহ ও বেথলেহেমকে ঘিরে একটি অখণ্ড ফিলিস্তিনি নগর এলাকা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পশ্চিমা দেশগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এরই মধ্যে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি অর্থনীতিও সংকটের মধ্যে রয়েছে।
এ অবস্থায় নতুন বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে সতর্ক করেছে দেশগুলো।
জাতিসংঘের মহাসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ‘ই-১’ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, এ প্রকল্প একটি অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে।
নতুন ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিটের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র আট দিন পর, ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পটি গত আগস্টে অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের অংশ। সে সময় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছিলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। এরপর সেখানে প্রায় ১৬০টি ইহুদি বসতি গড়ে উঠেছে। এসব বসতিতে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান ফিলিস্তিনিরা। এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।
আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সরকারগুলো বছরের পর বছর পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ করে আসছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরু হলে বসতি সম্প্রসারণের গতি আরও বেড়েছে।
সূত্র: বিবিসি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত