
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

লালচে খোসা আর শরীরজুড়ে নরম কাঁটার মতো আবরণ—দেখতে বেশ আকর্ষণীয় বিদেশি ফল রাম্বুটান। খোসা ছাড়ালে পাওয়া যায় সাদা, নরম ও রসালো শাঁস, যার স্বাদ মিষ্টি। স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণের কারণেও ফলটি বেশ জনপ্রিয়।
রাম্বুটানে রয়েছে খাদ্যআঁশ, বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তাই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে এই ফল খাওয়া যেতে পারে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়ক
রাম্বুটানে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থা ও সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়।
হজমে সহায়তা করে
রাম্বুটানে থাকা খাদ্যআঁশ হজমপ্রক্রিয়া ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত আঁশ নিয়মিত মলত্যাগেও ভূমিকা রাখে। তাই অন্যান্য আঁশযুক্ত ফলের পাশাপাশি পরিমিত রাম্বুটানও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উৎস
শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার সময় তৈরি হওয়া ফ্রি র্যাডিকেলের কারণে কোষে অক্সিডেটিভ ক্ষতি হতে পারে। রাম্বুটানে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ এ ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলটিতে গ্যালিক অ্যাসিডসহ কয়েক ধরনের উপকারী যৌগও রয়েছে।
হাড় ও দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি
রাম্বুটানে ফসফরাসসহ বিভিন্ন খনিজ রয়েছে। হাড় ও দাঁতের গঠন ও স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণে ফসফরাস গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু রাম্বুটান খেলেই হাড় বা দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে—এমন নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই ফলটি খাওয়া উচিত।
শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থায় সহায়ক
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগের উপস্থিতির কারণে রাম্বুটান শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে। তবে একে ‘প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক’ বা কোনো সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। অসুস্থ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কতটা রাম্বুটান খাবেন?
রাম্বুটান পুষ্টিকর হলেও এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে। তাই একসঙ্গে বেশি না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। অন্যান্য ফলের মতো এটিকেও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে।
যাদের ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত অবস্থা রয়েছে কিংবা বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ মেনে চলতে হয়, তারা নিয়মিত রাম্বুটান খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত