সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডাকে ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার প্রস্তাব ইইউর

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডাকে ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার প্রস্তাব ইইউর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ হিসেবে কানাডাকে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন।

বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি কানাডার সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক আরও গভীর করার এই প্রস্তাব দেন। এ সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পার্লামেন্টে উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার তার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফন ডার লায়েন বলেন, কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ করার পথ উন্মুক্ত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে কাজ করতে চান। তার ভাষ্য, এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে জোট গঠনের উদ্যোগ নয়; বরং ইউরোপ ও কানাডার অভিন্ন শক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টা।

তবে ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ নামে কোনো মর্যাদা বর্তমানে ইইউর চুক্তিতে নেই। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের জন্য নতুন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে। এর বিস্তারিত রূপ এখনও নির্ধারিত হয়নি এবং এ ক্ষেত্রে ইইউর সদস্যদেশগুলোর সম্মতির প্রয়োজন হতে পারে।

বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা—বিস্তৃত সহযোগিতার পরিকল্পনা

ফন ডার লায়েন বলেন, ইইউ ও কানাডা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনেকটা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

ইউক্রেন, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও সরবরাহব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। গণতন্ত্রের প্রতি পারস্পরিক অঙ্গীকারকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবেও তুলে ধরেন ফন ডার লায়েন।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা বলেন তিনি। সাম্প্রতিক আলোচনায় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

ইইউ ও কানাডার মধ্যে এরই মধ্যে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইটিএ) নামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন

কানাডাকে ঘিরে ইইউর এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে অটোয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপসহ অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি সম্প্রতি ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ে তোলার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে পূর্ণ সদস্যপদের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগও নিয়েছে অটোয়া।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ কারণে কার্নির ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের ইউরোপ সফরসূচিতে স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়া এবং ইইউর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে উপস্থিত থাকার বিষয়টি রাখা হয়েছে।

‘কারও বিরুদ্ধে নয়’—বার্তা ব্রাসেলসের

কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধী জোট গঠনের উদ্যোগ নয়—এমন বার্তাই দিয়েছেন ফন ডার লায়েন।

তিনি বলেন, ইউরোপের অংশীদারত্বগুলো কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয়। পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ইউরোপের অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রয়োজন রয়েছে।

ফন ডার লায়েনের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক নিয়ে বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ দেখা দিয়েছে।

‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব

কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাবও দিয়েছেন ফন ডার লায়েন। তিনি একটি ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের ধারণা তুলে ধরেন, যেখানে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, কানাডা ও নরওয়ের মতো ইউরোপের বাইরের ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়াকে ঘিরে ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে এ ধরনের কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নেতাদের একটি বিস্তৃত প্ল্যাটফর্ম গঠনের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং বর্তমান ঝুঁকির ধরন ও মাত্রার কারণে উদ্যোগটি এখন আরও জরুরি।

তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত কাঠামো এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এটি বাস্তবায়িত হলে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও ইউক্রেনকে নিয়ে ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

কানাডা-ইইউ সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা

নতুন ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ ধারণা বাস্তবায়িত হলে কানাডা ও ইইউর সম্পর্ক প্রচলিত বাণিজ্য অংশীদারত্বের বাইরে গিয়ে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত শিল্পে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থার মতো কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এটি এখনও একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। ইইউতে ‘অ্যাসোসিয়েট সদস্য’ মর্যাদার কোনো প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামো নেই। তাই প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে সদস্যদেশগুলোর রাজনৈতিক সম্মতি ও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কার্নির ভাষণে এ প্রস্তাব নিয়ে কানাডার অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে। ফলে কানাডা-ইইউ সম্পর্ক ভবিষ্যতে শুধু বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বিস্তৃত কৌশলগত কাঠামো পাবে—তা পরবর্তী আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: বিবিসি

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক ও প্রকাশক
Editor & Publisher

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত