
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক যুবক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মোটরসাইকেলে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় বস্তা থেকে রক্ত চুইয়ে পড়তে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তল্লাশি চালিয়ে বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৯ বছর বয়সী তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসের কাছে নাকা চেকিং চলছিল। এ সময় মোটরসাইকেলে একটি বস্তা নিয়ে যাওয়া ওই যুবককে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়।
তল্লাশি চালানোর সময় বস্তা থেকে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে তরুণীর মরদেহ। এরপর অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তরুণীকে নির্জন কোনো স্থানে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি বস্তাবন্দি করে অযোধ্যা পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ওই যুবক। রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
নিহত তরুণীর বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। অভিযুক্তের বাড়িও একই এলাকায়। নার্সিং পড়াশোনার জন্য তরুণী পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন। আর অভিযুক্ত যুবক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শহরের একটি মেসে থাকতেন।
নিহতের পরিচিতদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একই কোচিংয়েও পড়াশোনা করতেন।
তবে সম্প্রতি তরুণীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ তৈরি হয় অভিযুক্তের মধ্যে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বচসা হতো বলে অভিযোগ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই বিরোধের জেরেই শনিবার তরুণীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়েন অভিযুক্ত।
এদিকে, পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১টার দিকে মেস থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তরুণী। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন তিনি। কিন্তু সেদিন ফোন না আসায় পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তখন তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে মেসের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পাশাপাশি থানায় নিখোঁজের ডায়েরিও করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর গভীর রাতে ওই যুবককে আটক করে পুলিশ। তাঁর মোটরসাইকেলে থাকা বস্তা খুলতেই পাওয়া যায় নিখোঁজ তরুণীর মরদেহ।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্র: আনন্দবাজার

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত