
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের সড়ক ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। বুধবার সড়কটির শেষ অংশও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং ও সংযোগ সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সড়কটি চালু হওয়ায় দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত পৌঁছাতে পারবে। এতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতাও আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে ১১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে আরও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে চীন। ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ, ড্রোন ও পানি পরিশোধন সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে দেশটি।
নেপাল জানিয়েছে, দুর্যোগের পর দেশটিতে ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতার কারণেই এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত