সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

পঞ্চসার ইউপি সচিব রুহুল আমিনের কাছে ‘আলাদিনের চেরাগ’, নেপথ্যে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য !

সফিউর রহমান সফিক   |   বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪১৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পঞ্চসার ইউপি সচিব রুহুল আমিনের কাছে ‘আলাদিনের চেরাগ’, নেপথ্যে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য !

রুহুল আমিনের আমলনামা -১

বিপুল অংকের লেনদেন অতঃপর তিনি এলেন পূর্বের জাগায় ! এসেই পুরাতন একই কায়দায় আবার শুরু হয়েছে তার অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতিসহ নানান অনৈতিক কর্মকাণ্ড। যে কাণ্ড করে তিনি আজ কোটি কোটি টাকা বাড়ি-একাধিক ফ্লাট ও বিঘা বিঘা জমি বিপুল সম্পদের মালিক। বলছি মুন্সিগঞ্জ সদরের পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন ওরফে সবুজের বদলি সংক্রান্ত কারিশমার কথা ।

জুলাই আন্দোলনের পর বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন ডাক নাম সবুজকে পাশের ইউনিয়ন রামপাল ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয়।এদিকে জানা গেছে সম্প্রতি তিনি বিপুল অর্থ খরচ করে বদলির কয়েক মাস না যেতেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বদলি হয়ে রুহুল আমিন আসেন পঞ্চসার ইউনিয়নে । মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি সিন্ডিকেট জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙ্গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি জেলার একাধিক ইউনিয়নের বিতর্কিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক অফিসের বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের নামটি সামনে আসে ।
এই সিন্ডিকেটে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নানান অনিয়ম দুর্নীতি‌ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২৪ এর গণ আন্দোলনের পরে মুন্সিগঞ্জ সদর, গজারিয়া উপজেলা, টঙ্গী বাড়ি, লৌহজং, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের দোসরদের সাথে আঁতাত করে বিগত ১৬ বছর নানান অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ লুটপাট করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ থেকে হয়েছিল বটগাছ। সেই সকল কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিয়নে বদলি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এই বিষয়ে অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর বদলি হলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক ফাঁকফোকর এর মাধ্যমে তদবির করে পুনরায় পঞ্চসার ইউনিয়নে ফিরে আসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এই ইউনিয়নটি তার জন্য এক অনন্য ‘মধুর খনি’(টাকার খনি) । সম্প্রতি তিনি এই মধুর খনিতে আসার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোট অংকের অর্থ খরচ করে পঞ্চসার ইউনিয়নে বদলি হয়ে এসেছেন একাধিক সূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে ।

অন্যদিকে লাইসেন্স বাণিজ্য ও কারেন্ট জালের সিন্ডিকেট
পঞ্চসার ইউনিয়ন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রুহুল আমিন বিভিন্ন কল-কারখানা, ডাইং ফ্যাক্টরি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের নামে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রাখতেন তিনি। তার এহেন কর্মকাণ্ডের পিছনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে হাত ছিল। বর্তমানে পঞ্চসার ইউনিয়নের বদলি হয়ে আসার পর পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসকের সাথে আঁতাত করে রুহুল আমিন ধরাকে সরা করছে । এর পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতার সাথে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে অবৈধ সুবিধা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
শুধু তাই নয় পরিবেশ বিধ্বংসী প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কলকারখানা পরিচালনার গোপন অনুমতি দিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বেনামে সম্পদের পাহাড় রাজধানী থেকে মুন্সীগঞ্জ
একজন ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও রুহুল আমিন ও তার পরিবারের নামে যে পরিমাণ সম্পদের বিষয়ে অসংখ্য তথ্য উঠে এসেছে । এই সম্পদের উৎস কি? সম্পদের বিবরণ দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে ।
একজন ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও রুহুল আমিন ও তার পরিবারের নামে যে পরিমাণ সম্পদের বিবরণ উঠে এসেছে, তা যে কোনো শীর্ষ অপরাধীর সম্পদকেও হার মানায়। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তার সম্পদের বিবরণী নিম্নরূপ:
মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ও পঞ্চসার, রিকারি বাজার , বজ্রযোগনী এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি । মুন্সীগঞ্জ সদর এবং বজ্রযোগনী ইউনিয়ন ও আসপাশের এলাকায় নামে-বেনামে প্রায় ২০ বিঘা বিঘার বেশি স্থাবর সম্পত্তি ও কৃষিজমি।
ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট , বাড়ি , রাজধানী ঢাকার পুরাতন ডিওএইচএস (DOHS) সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
বেনামি অ্যাকাউন্ট বিনিয়োগ কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চোখ ফাঁকি দিতে এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগই তিনি নিজের স্ত্রী, নিকটাত্মীয় এবং বিশ্বস্ত সহযোগীদের নামে রেজিস্ট্রি করে রেখেছেন। যে লোকটির এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাত সে আজ কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক। পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিনের দুর্নীতি নানান ও নিয়ম এবং অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইলে ফোন দিলে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি নয় বলে মোবাইল কল কেটে দেন। এর সাথে পঞ্চসার ইউনিয়নের বর্তমান প্রশাসকের মোবাইলে কল করে রুহুল আমিনের ব্যাপারে এবং পঞ্চসার ইউনিয়নের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে প্রশাসকের কাছে জানতে প্রশ্ন করলে প্রশাসক এ বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং রুহুল আমিনের দুর্নীতি নানান অনিয়ম কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলে জানান ।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক ও প্রকাশক
Editor & Publisher

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত