
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানে হামলার জন্য ওয়াশিংটনকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে—এমন বার্তাই দিতে চায় তেহরান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাকদি জানান, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, আমরা তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়তে হয় তা শেখার জন্য প্রকৃত অভিজ্ঞতা অর্জনের মতো কোনও বাস্তব যুদ্ধ আমরা এর আগে কখনও দেখিনি। এই পাঁচ মাসে আমরা শিখে গেছি কীভাবে লড়তে হয়।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে যৌথ বিমান হামলা চালিয়ে তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরানি বাহিনী।
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়াই মূল লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, “আমাদের এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে শত্রু আর আক্রমণের সাহস না পায়, আমরা যেন নিরাপদে থাকতে পারি। এর একটি উপায় হল, এই যুদ্ধকে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন (২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা এবং প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলা, যাতে অন্য কেউ ইরানে হামলা করতে চাইলে বুঝতে পারে যে এর মূল্য দিতে হবে।”
চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে পারে কি না, জানতে চাইলে নাকদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ভুল হবে।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ফেলার পরদিন সকালেই বিশ্বজুড়ে তাদের সব সামরিক ঘাঁটি হাতছাড়া হয়ে যাবে। আজকের বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়, মানুষ এখন সচেতন। এমন অপরাধ করাটা কেউ মেনে নেবে না। কারণ, এর পরবর্তী শিকার তারা নিজেরাও হতে পারে।”
ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, “তার কোনও প্রয়োজন নেই।”
তিনি বলেন, “জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমরা গোটা বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করেছি, সেটাই আমাদের পারমাণবিক বোমা। ফলে অহেতুক ধ্বংসলীলা বা পারমাণবিক অস্ত্রের কোনও দরকারই আমাদের নেই।”
ইরানের ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়ে মার্কিন রাজনীতিবিদদের সমালোচনার বিষয়ে নাকদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনও শত্রুতা নেই। এই স্লোগানের অর্থ হলো আমেরিকার সেই নেতৃত্বের পতন, যারা পরাশক্তি হওয়ার পর থেকে অন্তত ৭০টিরও বেশি দেশে আক্রমণ চালিয়েছে বা নীতি লঙ্ঘন করেছে।
সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইআরজিসি কমান্ডার বলেন, ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোননির্ভর নয়। তারা বিজয়ী হলে তা হবে বিশ্বাসের জোরে।
তিনি বলেন, “আমেরিকান এবং ইহুদিরা সবসময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা মেলাতে ব্যস্ত থাকে।”
নাকদি দাবি করেন, ইরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, তার চেয়ে কম ছোড়ে।
তিনি বলেন, “যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের সুরক্ষিত উপায়ে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন পথ রয়েছে। নিশ্চিত থাকুন, এই যুদ্ধ যদি বছরের পর বছরও চলে, শেষ দিন পর্যন্ত ইরানের রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র ছুটতেই থাকবে।”
নাকদি আরও বলেন, “এমন দিন যদি আসে যে, ইরানের কাছে আর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট নেই, সেদিন আমরা আমেরিকার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠব।”

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত