
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল থেকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, চীনকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ‘মিথ্যা অভিযোগ’ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধ করা উচিত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরেন।
মাও নিং বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরতাই চীনের এআই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। একই সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা, যৌথ অবদান ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন হতে হবে উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই প্রযুক্তির সুফল যেন পুরো মানবজাতি পায়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে মাও নিং ওয়াশিংটনকে ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং চীনকে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানান। তার মতে, দুই প্রযুক্তি পরাশক্তির মধ্যে বৈরিতা বাড়ানোর পরিবর্তে এআই খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা উচিত।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএসএ, এনএসএ ও এফবিআই যৌথভাবে একটি সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শপত্র প্রকাশ করে। এতে অভিযোগ করা হয়, চীনভিত্তিক কয়েকটি এআই কোম্পানি শিল্পপর্যায়ে ‘নলেজ ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা আহরণ করছে।
মার্কিন সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে ডিপসিক, মুনশট এআই, আলিবাবা, মিনিম্যাক্স, স্টেপফান ও জেডডটএআইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে সম্ভবত চীনা সরকারের পরোক্ষ সমর্থন বা মদদে এসব কোম্পানি মার্কিন কোম্পানিগুলোর ক্লড, জিপিটি, জেমিনি ও গ্রোকের মতো এআই মডেল ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব মডেলের সঙ্গে লাখ লাখ আলাপচারিতার মাধ্যমে শত শত কোটি ‘টোকেন’ সংগ্রহ করা হয়েছে। টোকেন হলো এআইয়ের ভাষা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষুদ্রতম একক।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, এআই শিল্পে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাতে’ যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনা এআই কোম্পানিগুলোকে দমনের পথ বেছে নেয়, তাহলে বেইজিংও পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এপি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত