
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জিডি বা মামলা করার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই মামলা হতে পারে।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গতকাল সালমান মুক্তাদিরের একটি স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে এ বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন এবং বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ ছিল, চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে ভাঙচুর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেননি। এমনকি তিনি নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি এবং চাঁদা চাইলে তিনি দিতেন। ফলে নির্দিষ্টভাবে কার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে, তা এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে যে ঢালাও অভিযোগ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সালমান মুক্তাদির যদি চাঁদাবাজির বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করেন, তাহলে পুলিশ তা তদন্ত করে দেখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থল মানিকদী নামাপাড়া, যা ক্যান্টনমেন্ট থানার আওতাধীন। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এক পক্ষ একটি বিল্ডারস প্রতিষ্ঠান এবং অন্য পক্ষ একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জায়গাটি দখল করতে যায়। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ওই স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্থাপনা ছিল, যেখানে সম্ভবত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির কাজ হতো। ওই স্থাপনাতেও ভাঙচুর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। তার ফেসবুক লাইভে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত