
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গাজীপুরের পূবাইলে একটি রিসোর্ট পুরোপুরি ভাড়া নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ডিজে পার্টি’। তবে অভিযোগ, বিনোদনের আড়ালে সেখানে চলছিল মাদক সেবন ও কেনাবেচা। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে ‘পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে’ অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা।
অভিযানে পার্টি আয়োজনের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে কোকেন, কুশ ও বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘সনিক প্লাস’ ব্যানারে আয়োজিত ওই পার্টিতে প্রায় ৬০০ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাদের বেশির ভাগই কিশোর-কিশোরী। অংশগ্রহণকারীদের মাদক সরবরাহ করা হবে—এমন তথ্য পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও এসআরবির সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (২৯), তুষার আহমেদ (৩২), মহিদুল ইসলাম (২৮) ও কাসফিয়া নিশাত (২৫)। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারা পার্টির আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীদের মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় শনিবার গ্রেপ্তার চারজনকে আসামি করে জিএমপির পূবাইল থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু বিনোদনমূলক পার্টি, ডিজে ইভেন্ট ও ব্যক্তিগত আয়োজনকে মাদক সরবরাহ ও সেবনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব আয়োজনের প্রচার, অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাদক সরবরাহের সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
গাজীপুরে আগেও ডিজে পার্টিতে মাদক উদ্ধার
এর আগে গত এপ্রিল মাসে গাজীপুর সদর উপজেলার নলজানি এলাকায় ভাওয়াল রিসোর্টে ডিজে পার্টি চলাকালে অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি অবৈধ মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
রাতভর অভিযানে ৯টি এক্সটেসি, ৫ গ্রাম কুশ, ১৬৫ গ্রাম ক্যানাবিস চকলেট, ১০১টি বিয়ার ও তিন বোতল ভদকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম, ফয়জুল ইসলাম খান, ইফতিয়ার কাসেম, জিহাদ আহম্মেদ, রেদোয়ান হাসান চৌধুরী ও আবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ডিজে পার্টিতে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হয়েছিল। জাহিদুল আলম ওই আয়োজনের জন্য রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
টিকিট ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে কিশোর-কিশোরীদের কাছে এসব পার্টির টিকিট বিক্রি করা হয়। এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপন গ্রুপও খোলা হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জনপ্রতি ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিটের দাম নেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শুরুর পর আয়োজকদের নির্ধারিত মাদক সরবরাহকারীরা ভেতরে ঘুরে ঘুরে অংশগ্রহণকারীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঢাকা, গাজীপুর ও কক্সবাজারের বড় বড় রিসোর্টে প্রতি মাসেই এ ধরনের ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। একাধিক গ্রুপ এসব আয়োজনের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
রিসোর্ট মালিকদের সতর্কতা
ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক বিক্রির আয়োজন ঠেকাতে গাজীপুরের রিসোর্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে সতর্ক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, এ ধরনের আয়োজনের তথ্য পাওয়ার পর গাজীপুরের সব রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য রিসোর্ট ভাড়া না দেয়।
তিনি আরও বলেন, যারা এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত