
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা। পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার যুদ্ধ হতাহতসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। এতে গত কয়েক দিনে নতুন করে ৫০ জনের বেশি সেনা আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওভারসিজ অপারেশন্স’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র হিসাব মিলিয়ে এই হতাহতের সংখ্যা পাওয়া গেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবস্থানে ধারাবাহিক আক্রমণের কারণে দ্রুত বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।
হতাহতের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন
মার্কিন সেনাদের হতাহতের তথ্য প্রকাশের পেন্টাগনের পদ্ধতি নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। গত মাসে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে ‘ওভারসিজ অপারেশন্স’ নামে নতুন একটি বিভাগ চালু করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই থেকে নিহত ও আহত সেনাদের তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে।
তবে এসব সেনা ঠিক কোথায় বা কোন সংঘাতে হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পেন্টাগন।
৭ জুলাইয়ের ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। ওই দিন ট্রাম্প প্রশাসন ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্টের আওতায় মার্কিন কংগ্রেসকে ইরানকে ঘিরে নতুন পর্যায়ের সংঘাত শুরুর কথা জানায়।
এর আগে পেন্টাগনের অনলাইন ড্যাশবোর্ডে হতাহতের সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ইরানি হামলা চলার মধ্যেই একপর্যায়ে নিহতের সংখ্যা কমে যায়। চার সেনার মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্যও তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে সমালোচনার মুখে সেগুলো আবার যুক্ত করা হয়।
পেন্টাগনের দাবি, সাময়িক ডেটা বিপর্যয় বা কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি বনাম মাঠের বাস্তবতা
এদিকে বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি ‘চমৎকার’ এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজ ঘিরে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে।
ফলে মার্কিন সেনাদের ক্রমবর্ধমান হতাহতের তথ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে’ থাকার দাবির মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত