
ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে একসঙ্গে ১২টি বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তাহান্তে বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কারণেই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে আগেই গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে বিমান সরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে সরাসরি ইরানের হামলার আশঙ্কার কথা বলেনি পেন্টাগন। এক বিবৃতিতে ‘অভিযানিক নিরাপত্তার কারণে’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ ও বাহিনীর গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।
পরে পেন্টাগন নিশ্চিত করে, ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বিমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বহর বিশ্বজুড়ে নির্ভুল হামলার সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই অভিযান পরিচালনা ও শেষ করার সক্ষমতা এসব বিমানের রয়েছে।
ইরানকেন্দ্রিক মার্কিন সামরিক তৎপরতার সঙ্গেও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। গত মার্চে ইরানে ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয় যুক্তরাজ্য। এরপর থেকে মার্কিন বোমারু বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক উড়োজাহাজকে ঘাঁটিটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
যুক্তরাজ্যের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযানের কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ফেয়ারফোর্ড। ফলে সেখান থেকে একসঙ্গে ১২টি বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য হামলার সম্পর্কের বিষয়টি এসেছে মার্কিন এক কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো কারণ নিশ্চিত করেনি।
সূত্র: আলজাজিরা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত