
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের শর্তে অনড় রয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের সাত দফা শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধই থাকবে।
গালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করার পর যুক্তরাষ্ট্র একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানের কাছে কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবেও ইরানের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের বোঝা উচিত—একতরফা দাবি চাপিয়ে দিয়ে সময়ক্ষেপণের দিন শেষ। হরমুজ ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান ‘স্পষ্ট ও চূড়ান্ত’।
গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
কী আছে ইরানের শর্তে?
গত মাসে যুদ্ধ অবসানের জন্য কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একগুচ্ছ শর্ত পেশ করে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে—
সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান;
বিদেশে জব্দ বা স্থগিত থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ছাড়;
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার;
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ;
ইরানের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বন্ধ;
ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের হামলা বন্ধ।
এর সঙ্গে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ভিত্তিতে আরও কিছু শর্ত যুক্ত করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার পথ তৈরি করতে চাইছে তেহরান।
যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুই পথেই এগোবে ইরান
গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরান ‘উচ্ছ্বসিত’ও নয়, আবার ‘ভীত’ও নয়। তেহরান একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগিয়ে যাবে।
তার ভাষায়, সামরিক ক্ষেত্রে ইরান সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন নতুন চমকের মুখোমুখি করবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং ইরানি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানো হবে।
ইরানের এমন অবস্থান এসেছে যুদ্ধ অবসানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলার সময়ে। এর মধ্যে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত মাসেও ইরানের যুদ্ধ অবসানের শর্তগুলো কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
হরমুজ বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করতে পারে।
গালিবাফের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সাত দিনের রোডম্যাপের পর যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের অবস্থান হলো, শুধু আলোচনা বা প্রস্তাব নয়—শর্তগুলো বাস্তবে পূরণ করলেই হরমুজ প্রণালি খোলার পথ তৈরি হবে।
ফলে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, তা এখন নির্ভর করছে ইরানের শর্তগুলো কতটা পূরণ হয় এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনায় কতটা অগ্রগতি আসে তার ওপর।
সূত্র: আল-জাজিরা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত