
জেলা প্রতিনিধি | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যেকোনো দিন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীর ওপর পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০৩৩ সালের মধ্যেই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজের কাজ শেষ করা হবে। ব্যারেজের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে জিওপি প্রকল্প থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হয়েছি এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নিয়েছি। এরপর থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে কীভাবে উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে জনগণের স্বার্থে ও জনগণের পাশে থেকে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মেগা প্রকল্প। এটি বাস্তবায়ন হলে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক ও কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা করা হয়। পরে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস এবং একটি নেভিগেশন লক থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত