
জেলা প্রতিনিধি | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আল্ট্রাসনোগ্রামে যমজ সন্তান থাকার তথ্য মিলেছিল। কিন্তু সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের হাতে দেওয়া হয়েছে একটি কন্যাশিশু। অপর নবজাতকের কী হয়েছে, কোথায় আছে—এ প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছে না পরিবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলামের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে তাঁর স্ত্রীর গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। অথচ সিজারের পর একটি কন্যাশিশু দেখানো হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
এ ঘটনায় শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, অপর নবজাতকের সন্ধান বের করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
শান্ত ইসলাম জানান, তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর পৃথক দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় প্রতিবেদনে গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা উল্লেখ ছিল।
১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে ভ্রূণ দুটির হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে তাদের হৃদস্পন্দন পাওয়া যায় যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার। সম্ভাব্য ওজন দেখানো হয় ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম।
পরিবারের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে শান্তনা আক্তারকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যদের একটি কন্যাশিশু দেখানো হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।
প্রসূতি শান্তনা আক্তার অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের লোকজন তাঁদের জানিয়েছিলেন, তাঁর গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু সিজারের পর একটি কন্যাশিশু দেখানো হলে পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাঁর পেটের অস্ত্রোপচারের কাটা অংশ সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়।
শান্তনা আক্তার বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে তারা আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে ফেলে রাখে। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও করে এবং বলে, তাদের কথা না শুনলে এ অবস্থায় রেখেই চলে যাবে। পরে আমার শরীরে কাঁপুনি শুরু হলে আমি বলি, আপনাদের সব কথা শুনব, আগে পেটের সেলাই করেন। এরপর চিকিৎসক আমার সঙ্গে রাগারাগি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে পেটের কাটা অংশ সেলাই করা হয়। আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। আমার আরেক সন্তান কোথায়, তা জানতে চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘রোগী চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। সন্তান একটি না দুটি হয়েছে, তা ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নবজাতকের বাবা নিজে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত