
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৬ হাজার ৯১৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার সকালে আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে বাহিনীর ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করবে ১০৪টি স্ট্রাইকিং পেট্রোল।
মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে স্ট্রাইকিং পেট্রোল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোনো ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুযোগসন্ধানীরা যাতে বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য এসব দল প্রস্তুত থাকবে।
নিরাপত্তায় ব্যবহার হবে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় গত বছরের মতো এবারও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে। এ অ্যাপে ৬৬ হাজার সদস্য নিবন্ধিত থাকবেন। কোনো ঘটনা ঘটলে এর মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে জানান আনসার মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের ব্যবস্থার সফল ব্যবহার হয়েছে। এবারও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে অ্যাপটি কাজে লাগানো হবে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কার্যক্রম তদারকিতে বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সদস্য পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক ভাতা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা
দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের ভাতা কম বলে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সদস্য দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাতা পান। তবে তাঁদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য সদস্যদের মধ্যে সেবাধর্মী মানসিকতা তৈরি করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তাঁরা যেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সে জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
গুজব ও উত্তেজনা মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে আনসার মহাপরিচালক বলেন, সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্বে উপস্থিত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে গণজমায়েত বা উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সদস্যদের ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ওপর আক্রমণ হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
গুজব প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি জানান, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে ব্রিফিং এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভাও হয়েছে। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে। পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান আনসার মহাপরিচালক।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত