
সফিউর রহমান সফিক | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় সার্ভেয়ার-কানুনগোদের ঘুষ-দুর্নীতি অনিয়ম-৫
———————————————-
বছরের পর বছর ধরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল এ) শাখায় জেঁকে বসেছেন সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হয়রানি কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে বর্তমানে এল এ শাখা-২ এ কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য টাকা আটকে কমিশন আদায়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিন থেকে ।
* তার বদলি চমকপ্রদ নাটক .
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছুদিন আগে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনকে ঢাকা এল এ শাখা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। তবে দুর্নীতির এই জাল এতটাই গভীরে যে, মাত্র চার মাসের মাথায় পুনরায় মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে তদবিরের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় নিজের বদলির আদেশ করিয়ে নেন তিনি। বর্তমানে তিনি পুনরায় এল এ শাখা-২ এ জাঁকিয়ে বসেছেন।
* ৫% থেকে ১৫% কমিশন
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন এল এ শাখাকে নিজের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত করেছেন। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বা সরকারি প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণের শিকার হওয়া সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যখন তাদের জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করাতে আসেন, তখনই শুরু হয় তার ফাইল আটকানোর খেলা। আরো জানা গেছে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় আফজাল হোসেন একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যা ক্ষতিপূরণের চেক বা টাকা ছাড় করার নামে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত নগদ ঘুষ ও কমিশন আদায় করে থাকে। কমিশন না দিলে ফাইল মাসের পর মাস অতঃপর বছরের পর বছর লাল ফিতাবন্দী করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রে আরো জানা গেছে ঢাকা এল এ শাখার বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা হলে সেই মামলায় জেলে-হাজতে যান তিনি।
*নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার বিত্তবৈভব
একজন সাধারণ সার্ভেয়ার পদে চাকুরি করলেও আফজাল হোসেনের জীবনযাত্রা এবং অর্জিত সম্পদ কোনো ধনকুবেরের চেয়ে কম নয়। স্থানীয় ও অভ্যন্তরীণ সূত্র এ তথ্য জানা গেছে ।
*একাধিক ফ্ল্যাট
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও প্লট।
মিডফোর্ডে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
পুরান ঢাকার মিডফোর্ড এলাকায় নিজের নামে এবং বেনামে কয়েক কোটি টাকা পুঁজির একাধিক লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি।
*কেরানীগঞ্জের আফজাল লাল ফিতায় জুতোর তলা শেষ বনাম সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের নাটকে
একজোড়া নয় কয়েক জোড়া জুতার তলা ক্ষয় হয় আফজাল হোসেনের ঘুষ কেলেঙ্কারির মঞ্চস্থ নাটকের কাছে। এদিকে জানা গেছে কেরানীগঞ্জের আফজাল জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করাতে এসে সার্ভেয়ার আফজালের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে । কেরানীগঞ্জের আফজাল হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে কেরানীগঞ্জের আফজাল হোসেনের জমির ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করতে ঢাকা এল এ শাখা এসে সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের ফাঁদে পড়ে কেরানীগঞ্জের আফজালের কাছ থেকে তড়িৎ টাকা ছাড় করে দেওয়ার নাম করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কিন্তু আজ প্রায় দুই বছর যাবৎ কেরানীগঞ্জের আফজালকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নি: করে ফেলেছেন সার্ভেয়ার আফজালের এমন অপকর্মের কথা কমবেশি সবাই অবগত আছেন। কেরানীগঞ্জের আফজাল এল এ শাখার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নিকট জানিয়ে এর কোন সুরাহা পায় নাই ।
*ব্যাংক ব্যালেন্স
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি কোটি টাকার গোপন ও দৃশ্যমান ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য পাওয়া গেছে।
*শাস্তির দাবি ভুক্তভোগীদের
একজন তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীর এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া এবং বারবার বদলি বাতিল করে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এল এ শাখায় বার বার ফিরে আসার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন , দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরেফিরে ঢাকা এল এ শাখায় কর্মরত থেকে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর একপর্যায়ে উনি ফোন রিসিভ করে রাগাম্বিত সুরে এখন কথা বলা যাবে না বলে ফোন রেখে দেন ।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত