
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর কণিকা রানী মণ্ডল (৩২) নামে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে বালিয়াকান্দির বাঘুটিয়া গ্রামে কণিকার বাড়িতে গিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এমন ঘটনায় সরকার ব্যথিত।” রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিজারের পর থেকেই শুরু জটিলতা
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন অসুস্থ হয়ে কণিকা ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
অপারেশনের পরদিন থেকেই কণিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
ঢাকার হাসপাতালে ধরা পড়ে গজ
অবস্থার অবনতি হলে কণিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা বলে জানিয়েছে পরিবার।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে কণিকা মারা যান।
৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এরপর তদন্তের ফল অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও হাসপাতালের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে স্বাস্থ্য খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত