
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছে ইরাকের একটি নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল। ইরাকের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সি (আইএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি বাগদাদ অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কাজে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না—এমন ঘোষণা দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার প্রেক্ষাপটে ইরাকের পক্ষ থেকে নিজেদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
নেতৃত্বে ইরাকের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা
ইরাকি নিরাপত্তা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল আমির আল-শাম্মারি। তিনি ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের কার্যালয়ের পরিচালক।
ইরাকি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলে দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও রয়েছেন।
ফলে রিয়াদ সফরটিকে শুধু নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক পর্যায়ে সরাসরি সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সৌদিতে হামলা নিয়ে আলোচনা
সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক হামলাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলা এবং অন্যান্য আকাশপথের নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া দুই দেশের সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত রয়েছে। ফলে দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব—সবকিছুই তাদের পারস্পরিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
ইরাকের ভূখণ্ড নিয়ে বাগদাদের অবস্থান
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি সম্প্রতি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার সরকার ইরাকের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।
ইরাকের ভেতরে ইরানঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি অতীতে ইরাকের বাইরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো আঞ্চলিক দেশে হামলা চালানো হলে বাগদাদ নিজেও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর হামলার অভিযোগ থাকায় রিয়াদ সফরে ইরাকের নিরাপত্তা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদ-বাগদাদ যোগাযোগ
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সৌদি আরব ও ইরাক—দুই দেশের জন্যই নিজেদের সীমান্ত ও আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরব আঞ্চলিক সংঘাতের সরাসরি অংশ না হলেও দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং জ্বালানি অবকাঠামোর কারণে বিভিন্ন পক্ষের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের ভেতরে ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি দেশটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখছে না।
এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ ও বাগদাদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সীমান্ত নিরাপত্তায় জোর
আলোচনায় সীমান্তপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দূরপাল্লার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরাকি প্রতিনিধিদলে দেশটির গোয়েন্দা ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই সফরের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
সৌদি আরব ও ইরাক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছে। বাণিজ্য, সীমান্ত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা সম্পর্কও সেই বৃহত্তর অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, আইএনএ

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত