সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

শত শত মাছ ধরার জাল তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠান যুগোপযোগী আইন না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে !

সফিউর রহমান সফিক   |   শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শত শত মাছ ধরার জাল তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠান যুগোপযোগী আইন না থাকায়  মুখ থুবড়ে পড়েছে  !

শত শত শিল্প প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়েছে যুগোপযোগী আইন না থাকায় । দেশের মৎস্য আহরণের জন্য জাল তৈরির অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের এই দশা থেকে উত্তরণের উপায় রাষ্ট্র ও সরকারকে খুঁজে বের না করলে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা শিল্পটি হারিয়ে যাবে সহসাই । বর্তমান সময়ের সাথে যুগোপযোগী নীতিমালা ও মাৎস আইন সংশোধন করে প্রনয়ন না করলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়ে একে একে বন্ধ হয়ে যাবে মাছ ধরার জাল তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো মৎস্যজাল উৎপাদন শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ কালে এমনটাই জানা গেছে ।

বর্তমানে দেশে মৎস্য আহরণের জন্য সাগর ও নদীতে মাছ ধরার জাল আমদানি নির্ভর দিকে ঝুঁকছেন বাংলাদেশ । এই মাছ ধরার জাল আমদানির কারণে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে । ১৯৫০ সালের মৎস্য আইন সংশোধনের নামে ১৯৮৫ সালে ঐ আইনের একটি ধারা বাদ দিয়ে সংশোধনের নামে নদীতে মাছ ধরার জাল উৎপাদন শিল্পের বারোটা বাজিয়েছে যার কারণে বিভিন্ন দেশের চাহিদা ও মাপ মতো জাল উৎপাদন করা যাচ্ছে না বিদেশে রপ্তানি করার জন্য। অন্যদিকে ১৯৫০ সনের আইন দিয়ে এখনো চলছে এই শিল্পের কার্যক্রম। এখানে উল্লেখ্য যে মান্ধাতার আমলের এই আইনের বেড়াজালে পড়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকরা পদে পদে নানান হয়রানির হয় হচ্ছে কারণে অকারণে।

এদিকে আরো যারা গেছে ১৯৫০ সালের মৎস্য আইনের নীতিমালায় ৫.৪ সেন্টিমিটার মাপের মৎস্য ধরার জাল তৈরি বা উৎপাদনে কোন বাধা ছিল না। সাগরে ও নদীতে মাছ ধরার জাল উৎপাদনের ফ্যাক্টরি গুলো উল্লেখিত সাইজের মাপে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের ন্যায় যুগোপযোগী আইন ও নীতিমালার অভাবে জাল তৈরি শিল্পের অবস্থা এখন করুন। মুখ থুবড়ে পড়েছে রপ্তানি সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি । ১৯৮৫ সালে এই শিল্পের আইনের কিছু পরিবর্তন করে সরকার। বর্তমান সময়ে এই শিল্পের প্রসার ঘটাতে হলে এই আইনের অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করে যুগোপযোগী আইন ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিভিন্ন মহল এবং এই শিল্পের সাথে জড়িত ক্ষুদ্র মাঝারি ও ভারী শিল্পী উদ্যোক্তারা । তাই সাগর ও নদীতে মাছ ধরার জাল তৈরির (উৎপাদন) শিল্পটি রক্ষা করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও বিভিন্ন মহল ।

এদিকে আরও জানা গেছে মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাগর ও নদীতে মাছ ধরার জাল তৈরির অসংখ্য ক্ষুদ্র মাঝারি ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত । আমাদের দেশীয় জাল তৈরি শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নদী ও সাগরে মাছ ধরার যুগোপযোগী জাল দেশে তৈরি করে দেশ ও বিদেশে অনেক খ্যাতি কুড়িয়েছেন । এর সাথে এই মাছ ধরার জাল যাতে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায় সেই লক্ষ্য নিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছিল শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো । কিন্তু বেশ কয়েক বছর যাবৎ উন্নত প্রযুক্তি আর বিদেশি বাজারের প্রতিযোগিতার কাছে আমাদের দেশের আইন কানুন ও নানান জটিলতার কারণে সঠিক পদ্ধতি ও বিদেশে রপ্তানি করার মত বিভিন্ন সাইজের মাছ ধরার জাল তৈরি করার নীতিমালা না থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এই মাছ ধরা জাল তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মাছ ধরার জালের বাজার বিদেশি দখলে চলে যাচ্ছে। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে মাছ ধরার জাল তৈরির ফ্যাক্টরি গুলো। কর্ম হারাচ্ছে হাজার হাজার লোক। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করার মত মানসম্পন্ন সাগর ও নদীতে মাছ ধরার জাল তৈরির অসংখ্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প আকারে এবং মাঝারি ও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর ,পঞ্চসার ও তার আশপাশ এলাকায়। মুন্সিগঞ্জ এলাকার শিল্প উদ্যোক্তারা শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অত্যাধুনিক কারখানা চালু করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাগর ও নদীতে মাছ ধরার জাল তৈরি করে দেশের বাজারে চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা । তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি এই শিল্পের শিল্প উদ্যোক্তারা।

নানান আইন-কানুন নীতিমালা ও ১৯৫০- ১৯৮৫ সালের মৎস্য আইন সংশোধনের মধ্যে যুগোপযোগী আইন ও নীতিমালা না থাকার অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে । সামনের দিনগুলোতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে। এই ক্ষুদ্র , মাঝারি ও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে এক সময় সরকার প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা রাজস্ব পেত কিন্তু বিভিন্ন আইন কানুন ও নীতিমালার কারণে বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ও বিদেশি রপ্তানি করার মত জাল তৈরি করতে না পারায় বন্ধ হয়ে যাবে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো । সেহেতু এই শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো রক্ষার্থে সরকার তড়িৎ মৎস আইনের সংশোধন সহ আইনের অন্যান্য বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল ।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক ও প্রকাশক
Editor & Publisher

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত