
ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিধিগত জটিলতা দূর করেছে সরকার। মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার, অক্ষরের উচ্চতা এবং নম্বর লেখার বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ রেখে সংশোধন করা হয়েছে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২।
রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকরের কথা বলা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত বিধানে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
এ ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটের ফাঁকা জায়গা, সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে বিআরটিএ।
এ ছাড়া একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা বাড়াতে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও সংশোধিত বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিধানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় প্রচলিত নির্দিষ্ট মাপের নম্বরপ্লেট স্থাপনে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। নতুন সংশোধনীর ফলে মোটরসাইকেলের গঠন অনুযায়ী নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হলো।
সড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন শনাক্তকরণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণে সামনের নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশের ফলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপন ও বিন্যাস নির্ধারণে বিআরটিএর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির বিধিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে কোন ধরনের মোটরসাইকেলে কী আকারের নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হবে এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে বিআরটিএর পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত