
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকলে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা বা প্রকল্প পরিত্যক্ত না করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত সংস্কারের মাধ্যমে তা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকা। রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও যানজট ও দুর্বল গণপরিবহনব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, উৎপাদনশীলতা কমছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তাদের মতে, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্প চালু হলে ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি আবাসন, হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে রাজধানীর ওপর পরিবহন চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অবকাঠামো ভাঙা নয়, সংস্কার করে চালুর আহ্বান
বক্তারা বলেন, বিআরটি প্রকল্পের কারিগরি, পরিচালনাগত কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে পরিচালন পদ্ধতি পরিবর্তন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।
তাদের দাবি, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কিংবা প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি
বিআরটি প্রকল্প দ্রুত চালুর লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন নাগরিক প্রতিনিধিরা। দাবিগুলো হলো—
১. বিআরটি দ্রুত চালুর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা।
২. নির্মিত অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৩. প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা।
৪. প্রকল্প বাতিল বা মূল পরিকল্পনা পরিবর্তনের আগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহন মূল্যায়ন প্রকাশ।
৫. রেল, এমআরটি, স্থানীয় বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৬. গাজীপুরবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ।
৭. প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া বিআরটি করিডোরের বিকল্প হিসেবে ড্যাপ, ডিটিসিএ ও জিসিসি অনুমোদিত সালনা-উত্তরা দৌড় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও জানান বক্তারা।
প্রকল্পের সিদ্ধান্তে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব থাকতে পারে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
তারা বলেন, গাজীপুরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু একটি জেলার মানুষের স্বার্থের বিষয় নয়। এর সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্প, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন জড়িত। তাই জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কায়সার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের (ডুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সামসুল হক, নগর পরিকল্পনাবিদ মুনতাসির মামুন, পুবাইল আদর্শ কলেজের অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইমাম সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি ফরহাদ হোসাইনসহ অন্যরা।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত