
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

লক্ষ্য ২৪২ রান। অথচ ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট নেই। জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৮৮ রান। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জয় ছিল প্রায় অসম্ভব। পরাজয় নিশ্চিত ভেবে গাদ্দাফি স্টেডিয়াম ছেড়েছিলেন অনেক দর্শক। কিন্তু শেষ উইকেটে শাদাব খান ও হারিস রউফের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে বদলে গেল ম্যাচের দৃশ্যপট।
শাদাবের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও রউফের দৃঢ়তায় ইংল্যান্ডকে ১ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। শেষ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সফল রান তাড়ায় গড়েছে নতুন রেকর্ড।
৯৬ বলে অপরাজিত ১১৩ রান করে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন শাদাব। অন্য প্রান্তে ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যান হারিস রউফ। তাঁদের অবিশ্বাস্য জুটিতে ভেঙেছে ৫১ বছরের পুরোনো রেকর্ড।
১৯৭৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬৪ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন শাদাব ও রউফ।
এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। অন্যদিকে, টানা তিন হারে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। শ্রীলঙ্কা পরের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেই কেবল ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে ইংল্যান্ডের।
ডাকেটের সেঞ্চুরির পরও ২৪১ রানে অলআউট ইংল্যান্ড
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার বেন ডাকেটের সেঞ্চুরির পরও ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ৪৬.৪ ওভারে গুটিয়ে যাওয়া দলটির বিপক্ষে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি নেন ৪ উইকেট।
ইংল্যান্ডের ইনিংসেও শেষ উইকেটে লড়াই দেখা যায়। দশম উইকেটে গাস অ্যাটকিনসন ও অভিষিক্ত হেনরি ক্রোকম্ব যোগ করেন ৪০ রান।
১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পাকিস্তান
২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। জেমি ওভারটন ও অ্যাটকিনসনের পেসের পাশাপাশি লিয়াম ডসন ও উইল জ্যাকসের স্পিনে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
একপর্যায়ে ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল আরও ৮৮ রান। ইংল্যান্ডের জয় তখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল।
শাদাবের প্রথম সেঞ্চুরি, রউফের লড়াইয়ে ঐতিহাসিক জয়
গত জুনের পর প্রথমবার ওয়ানডে খেলতে নেমেই সবাইকে চমকে দেন শাদাব। চাপের মুখে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ উইকেটে হারিস রউফকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।
দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটিতে শাদাবের অবদান ৮১ রান, রউফের ৭। তবে ১৯ বল উইকেটে টিকে থেকে রউফ যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন এবং তাঁর ব্যাট থেকেই যে এসেছে জয়সূচক রান, তাতে এই জয়ে তাঁর অবদানও অনস্বীকার্য।
শেষ উইকেটে এমন অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে পাকিস্তান শুধু ম্যাচই জেতেনি, ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও গড়েছে স্মরণীয় এক কীর্তি।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত