
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের হামলা ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিকে ‘বিপদের প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনু।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জাহাজগুলো অনুমতি ছাড়াই প্রণালিটি অতিক্রম করছিল।
আইআরজিসির হুঁশিয়ারি, এ ধরনের চলাচল অব্যাহত থাকলে হামলার পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনুর মতে, ইরানের এই বক্তব্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা কৌশলগত বার্তা দিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে ইরানকে সতর্ক করছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
হুদিস্তেনু বলেন, “এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিপদের প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।” তাঁর মতে, দুই পক্ষের হুমকি ও কঠোর বক্তব্য উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
আলোচনা থমকে, বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্যের কারণে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে না বলে মনে করেন হুদিস্তেনু।
তাঁর ভাষ্য, আলোচনাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং এগিয়ে নেওয়া কঠিন। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়গুলোতেও দুই পক্ষের মধ্যে কার্যত কোনো ঐকমত্য নেই।
এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান হামলার পরিধি বাড়ালে এবং যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহনে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা অচল হলে কী হবে?
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। আন্তর্জাতিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম।
এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি এবং দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে এই উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত