
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজধানীর মহাখালীতে বন্ধক রাখা একটি ফ্ল্যাটের দখল ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি এবং সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভবন মালিক রোজী খন্দকার, তার মেয়ে কানিজ ফাতিমা নিপা, জামাতা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সুমন, বড় মেয়ে মনিরা তাসনিম মিশু ও জামাতা মোহাম্মদ মারুফের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে হুমায়ুন কবির মহাখালীতে রোজী খন্দকারের মালিকানাধীন ভবনের ২৪ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তার দাবি, ফ্ল্যাটটি বন্ধক বাবদ তিনি রোজী খন্দকারকে ৩০ লাখ টাকা দেন।
চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে না পারলে ফ্ল্যাটটি হুমায়ুন কবিরের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। ফলে তিনি ভাড়াটিয়া হিসেবে নয়, বন্ধক চুক্তির ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন বলে দাবি করেন।
বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে, ফিরে পেলেন মালামাল সরানোর খবর
প্রায় দেড় মাস আগে হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই হঠাৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি গ্রামের বাড়িতে যান।
এ সময় তিনি খবর পান, তার বাসার সিসি ক্যামেরার চিপসহ বিভিন্ন মালামাল ঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে নিজের মূল্যবান জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।
এরপর গত ৯ আগস্ট হুমায়ুন কবিরকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ফোনে তাকে বলা হয়, ‘তুমি বাড়িতে এসেছ, এখন আর বাড়ি থেকে ফিরতে হবে না।’
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বন্ধক-সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়েও মামলা করেন।
সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের মধ্যেও মামলা
অন্যদিকে, রোজী খন্দকারের মেয়ে ও জামাতাদের বিরুদ্ধে মায়ের সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা করার তথ্যও পাওয়া গেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তারা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কানিজ ফাতিমা নিপা মামলা করেছেন বলেও জানা গেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বামীর মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ
এ ছাড়া রোজী খন্দকারের পারিবারিক জীবন ও তার স্বামী মনজুরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, মনজুরের সঙ্গে রোজী খন্দকারের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধ ছিল এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে মনজুর মারা যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে লিটন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে রোজী খন্দকারের সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুমায়ুন কবিরের দাবি, প্রায় এক বছর আগে তিনি ও তার স্ত্রী রোজী খন্দকারের সঙ্গে লিটন নামের ওই ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকেই তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত