
ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় নেপাল ও চীনের তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৬২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৮২ জন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৬১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটিতে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। অন্যদিকে, চীনের তিব্বতে সাতজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ পানির ঢল নামে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বন্যার পর পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ জমে একটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে পড়লে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হলেও পরে তা আবার শুরু করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।
এখনো নিখোঁজ ৩২০ ভারতীয়
এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় থাকা ভারতীয়দের নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ২১ জন ভারতীয় কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন। ত্রিশূলী ওয়ান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া চীনের অংশে আটকে থাকা আরও ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তবে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে দুই দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্গতদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি ও এনডিটিভি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত