সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

নেপালে টানেলে শত শত শ্রমিক আটকা, পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলছে উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নেপালে টানেলে শত শত শ্রমিক আটকা, পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলছে উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরি করার পাশাপাশি টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

বিবিসি নেপালির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯০০ জনের বেশি কর্মী গত বুধবারের পর থেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। তবে টানেলের ভেতরে প্রকৃতপক্ষে কতজন আটকা পড়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে, আপার ত্রিশুলি ৩এ ও আপার ত্রিশুলি ৩বি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছিল।

ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টানেলের দিকে যাওয়ার পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ভেতরে বাতাস পাম্প করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, জীবিত শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

নিখোঁজ প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি স্বামীর জীবিত ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী অরুস বন্যার সময় প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ছিলেন।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৯৩৯ এবং তিব্বতে ১৬ জন মারা গেছেন। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিখোঁজের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনসহ মোট ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

নেপালি ও চীনা সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও অভিযানে সহায়তা করছেন।

নিখোঁজদের স্বজনেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বলছেন, সময় যত গড়াচ্ছে, স্বজনদের জীবিত উদ্ধারের আশা ততই কমছে। তবে টানেলের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকায় এখনও আশাবাদী অনেক পরিবার।

অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স দূর থেকে নেপালি কর্তৃপক্ষকে ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান অভিযানে সহায়তা করছেন। তিনি জানান, বন্যার ভয়াবহতায় টানেলগুলোর চিহ্ন পর্যন্ত হারিয়ে গেছে। ফলে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ খুঁজে বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ডিক্স বলেন, ভূগর্ভে আটকে থাকা শ্রমিকদের বেঁচে থাকার কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ওপরের প্রবল বন্যার সরাসরি ধাক্কা থেকে টানেলের ভেতরের পরিবেশ তাঁদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে।

চিতওয়ানে ভেসে আসছে মরদেহ

বন্যার মূল আঘাতের স্থান থেকে ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের নদীপথে ভেসে আসা প্রায় ৩০০ মরদেহ সেখানে তীরে জমা হয়েছে।

শনাক্ত করা যায়নি এমন মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন। পর্যাপ্ত ফ্রিজার না থাকায় কিছু মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তিব্বতে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৬ এবং নিখোঁজ ৫৪৬ জন। বন্যা নিয়ে ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল ও চীন কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক ও প্রকাশক
Editor & Publisher

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত